শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯
Home জাতীয় তারেকের হ্যা খালেদার না

তারেকের হ্যা খালেদার না

0
74
তারেকের হ্যা খালেদার না

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : বিএনপির বহিস্কৃতদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মত ভিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন একতরফা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। তাদের ভাষায় নির্বাচনে জনগনের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। সরকার জনগনের অধিকার রক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে, কাজেই তারা ঐ নির্বাচনের পর ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না।

সেই প্রেক্ষিতে তারা উপজেলা নির্বাচন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত লংঘন করে বিএনপির প্রায় ১৬৪ জন উপজেলায় অংশগ্রহণ করে এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যারা উপজেলা নির্বাচন করেছিল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়। এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে প্রায় ১১৪ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরো অন্তত ৩৪ জনকে বহিস্কার করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বহিস্কারাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এটা নিয়ে মত ভিন্নতা ছিল, তা সত্বেও দলের নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই বহিস্কারাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যেহেতু সাংগঠনিকভাবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। কাজেই যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা স্পষ্টভাবে বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লংঘন করেছে, এক্ষেত্রে তাদের বহিস্কার ছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না।

বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দাবি করেছেন যে, তারেক জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সারাদেশে এই বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক জিয়া বলেছেন দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী। এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্যই উপজেলা নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এই বহিস্কারাদেশের ফলে যেটা হয়েছে, ওই এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে ধস নেমেছে। ও এলাকায় বিএনপির অন্যান্য কর্মীরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং তাঁরাও বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে।

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং তিনি কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে বহিষ্কারাদেশ যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিএনপির একজন নেতা দাবী করেছেন যে, বেগম জিয়ার চিকিৎসক ডঃ মামুনের মাধ্যমে প্রেরিত এক বার্তায়  বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যখন আমরা সংস্কারপন্থিদের দলে নিচ্ছি, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে তাঁদের আমরা দলে নিচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে দলের তৃণমূলের নিবেদিত কর্মীদেরকে বহিষ্কারাদেশ ঠিক হয়নি।

তিনি মনে করেন যে, এর ফলে সংগঠনে ভুল বার্তা যাবে এবং এর ফলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, এখন কাউকে শাস্তি দেয়ার সময় না। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। বরং দলে বহিষ্কৃত হয়েছে তাঁদেরকে দ্রুত দলে ফিরিয়ে এনে দলীয় কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের বিভক্তি ও বিরোধ কাটিয়ে ওঠারও নির্দেশ দিয়েছেন বেগম জিয়া বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তারেক জিয়া এখন পর্যন্ত নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। মা পূত্রের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই হলো দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here