১০ কাজে নিষেধাজ্ঞা এমপিদের উপর

0
169
১০ কাজে নিষেধাজ্ঞা এমপিদের উপর

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচিত আওয়ামী লীগ এমপিরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগের একটি নিজস্ব টিম তাঁদের সমস্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এমপিদের বলেছেন, ‘তোমাদের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যায় বা কোনো ধরণের অনিয়ম করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে আর কোনোদিন নৌকা প্রতীক পাবে না।‘

দশটি কাজের উপর এমপিদেরকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দশটি কাজ এমপিরা মোটেই করতে পারবে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর সোনাগাজিতে নুসরাতের ওপর নৃশংস ঘটনার পর এ ব্যাপারে আরও কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে ১০টি কাজ এমপিরা করতে পারবেন না তারমধ্যে রয়েছে-

১. কোনো এমপি মাদক ব্যবসা বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যে গডফাদারেরা রয়েছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন না বা কোনোরকম আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে পারবেন না।

২. সন্ত্রাসী বা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো পেশাদার সন্ত্রাসী তাঁদের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তাঁদের কোনোরকম আশ্রয়প্রশ্রয় দিতে পারবেন না। তাঁদের জামিন বা তাঁদের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনোরকম তদ্বির করা যাবে না।

৩. কোনো সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাধাপ্রদান করা যাবে না। উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আটকে রাখা যাবে না।

৪. যেকোনো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম যেমন- মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন সামাজিল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাতার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ আছে যে যারা যোগ্য প্রাপ্য তাঁদেরকে না দিয়ে মন্ত্রী এমপিরা এগুলোতে তাঁদের নিজেদের পছন্দের লোক ঠিক করেন। এ ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে।

৫. ২০১৪-১৫ সালে সারাদেশে জামাত বিএনপির অগুন সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের যে মামলাগুলো আছে সেই মামলার অভিযুক্ত আসামীকে আশ্রয় প্রশয় দেওয়া যাবে না। এই মামলার জন্য আদালত বা থানায় কোন সুপারিশ করা যাবে না।

৬. এমপি তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার যে আওয়ামী লীগ আছে তার সঙ্গে বিবাদে জড়াতে পারবেন না বা আলাদা গ্রুপিং করা যাবে না।

৭. আওয়ামী লীগ সরকারের যে প্রশাসন রয়েছে, সে প্রশাসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

৮. চাকরির তদবিরে কোন ডিও দেওয়া বা চাকরি দেওয়ার নামে কোন অসৎ উপায় অবলম্বন থেকে বিরত থাকতে হবে।

৯. একজন এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় কোন অবৈধ দখল যেমন; সরকারের খাস জমি বা অন্যের সম্পতি অবৈধভাবে দখল দিতে পারবেন না। এটা যদি জানা যায়, কিংবা প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে খাস জমির ক্ষেত্রে এটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

১০. জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে কোন রকম সম্পর্ক করা যাবে না।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, শুধু সরকার নয়, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতেও এমপিরা আছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যখনই কোন এমপি এই ১০ টা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাজ করবেন, তখনই বিষয়টি যেন প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। একাধিক দায়িত্বশীল এমপি বলেছেন, তাদেরকে এ ব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here