তেল নিয়ে তেলেসমাতি : ডিবির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর মামলা

0
40
তেল নিয়ে তেলেসমাতি : ডিবির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে এক তেল ব্যবসায়ির প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানে থাকা ৭২ ব্যারেল তেল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা তেল থেকে ১৫ ব্যারেল তেল পুলিশ আত্মসাৎ করে ৫৭ ব্যারেল তেল উদ্ধার দেখিয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ব্যবসায়ি ইকবাল চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে ১৬ জনকে আসামী করে গত ১২ মার্চ তেল চুরির মামলা দায়ের করেন। পক্ষান্তরে ১৩ মার্চ তেল ব্যবসায়ি ইকবাল চৌধুরী বাদি হয়ে ডিবি পুলিশের ২ কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে আসামী করে চাঁদাবাজি ও তেল লুটের অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে মামলা দায়ের করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রতিবেদন দিতে নির্দশ দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান পাল্টাপাল্টি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ এবং ব্যবসায়ির পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, পুলিশের মনোবল ভাঙ্গতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আদালতে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ডিবি পুলিশের সোর্স আনোয়ার হোসেন, এসআই আলমগীর হোসেন, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম এবং ক্যাশিয়ার নূরু মিয়াকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় তেল ব্যবসায়ি ইকবাল চৌধুরী উল্লেখ করেন, তিনি একজন বৈধ তেল ব্যবসায়ী। যমুনা ডিপো থেকে বৈধভাবে তেল ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। গত ১০ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্ত ওই চারজন ফতুল্লা লঞ্চঘাট এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটি মাইক্রোবাস যোগে এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তার ম্যানেজার রুবেল ও লোকমানকে আটক করে মারধর করে। এক পর্যায়ে গোডাউনের তালা ভেঙে ৭২টি ডিজেলভর্তি ড্রাম (প্রতিটিতে ২২০ লিটার) লুট করে ৫ টনি তিনটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। সঙ্গে রুবেল, লোকমান ও কামাল হোসনকেও ধরে নিয়ে যায়।
এ খবর জানতে পেরে ইকবাল হোসেন এক লোক মারফৎ জব্দ করা তেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিবি অফিসে পাঠালে আসামীরা কাগজগুলো ভুয়া বলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পরে জানতে পারি আমার প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে যাওয়া ৭২ ব্যারেল তেলের পরিবর্তে ৫৭ ব্যারেল উদ্ধার দেখিয়ে আমাকে (ইকবাল চৌধুরী) প্রধান আসামী করে ১৬ জনে বিরুদ্ধে তেল চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ আমার প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের কাগজপত্র রয়েছে যা যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল ক্রয়ের সময় প্রদান করা।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রধান আসামী আনোয়ার হোসেন ডিবি পুলিশ পরিচিয়ে একাধিকবার ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি ফতুল্লায় পুলিশ সোর্স শাওন হত্যা মামলার আসামি।
অপরদিকে গত ১২ মার্চ ডিবি পুলিশের এসআই জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে ইকবাল চৌধুরীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় তেল চুরির অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় ৫৭টি ড্রামে সাত লাখ ছিয়ানব্বই হাজার নয়শ চল্লিশ টাকার ডিজেল জব্দ দেখানো হয়েছে।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here