নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা থানায় বিএনপির ১৫৪ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে আরও পৃথক ৩ মামলা

0
220
নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা থানায় বিএনপির ১৫৪ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে আরও পৃথক ৩ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া লিংকরোড ও ফতুল্লার মুন্সিখোলা এলাকা থেকে দু’টি যাত্রীবাহি বাস থেকে আটক নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৫৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক ওই তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

সদর মডেল থানায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি নাসিক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টিসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাত ৩৫ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মোঃ মুজিবুর রহমান।

ফতুল্লা মডেল থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাব্বানীসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩৫ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন পুলিশের জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান।

অপরদিকে ফতুল্লা মডেল থানায় মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি হাজী সুলতান আহম্মেদসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই তাজুল ইসলাম। তিনটি মামলাতেই ককটেলের অংশ বিশেষ ও ককটেল তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফতুল্লার মুন্সিখোলায় ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে চেকপোস্ট এলাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দিঘীরপাড় নামে একটি বাস থেকে ২৯ জনকে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। অপরদিকে শহরের চাষাঢ়া লিংক রোড এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৮ জন নেতাকর্মীকে বোরাক পরিবহনের একটি বাস থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

সদর মডেল থানায় ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। মামলার আসামীরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি, রাসেল মাহমুদ, হযরত আলী, মোঃ রুবেল, আনোয়ার হোসেন, মোঃ রাব্বী, মোঃ রাজু, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ আসাদুল ইসলাম, মোঃ আবু হানিফ, মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ মিঠু, মোঃ শান্ত, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ রাজু, মোঃ ইয়াসিন মুন্সি, মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ সোহেল রানা, মোঃ রানা, মিজানুর রহমান, মোঃ হাসান, মোঃ বসার, মোঃ মাফুজ, মোঃ চঞ্চল, মোঃ ইমদাদুল হক, মোশারফ হোসেন রুবেল, মোঃ রনি, বোরাক বাসের বাসের মালিক কাশেম মিয়াসহ অজ্ঞাত ৩৫ জন।

ফতুল্লা মডেল থানায় ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত মামলার ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে শিবুমার্কেট এলাকায়। মামলার আসামীরা হলেন, মোঃ রানা, মোঃ হোসেন মিয়া, আনিছ আনসারী, মোঃ শরীফ, মোঃ আলমগীর, মোঃ আনোয়ার, মোঃ রনি মোঃ মঞ্জুর, মোঃ হাবিব, সজিব মিয়া, মোঃ লিটন, মোঃ হৃদয়, মোঃ রাসেল, মোঃ বাবু, মোঃ রনি, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ আবীর, মোঃ রিয়াজ, মোঃ কাওছার মীর, মোঃ আজাদ, সোহাগ, মোঃ রব্বানী, হুমায়ন কবির, রকিবুর রহমান সাগর, অখিলউদ্দিন, জুয়েল রানা, আশিকুর রহমান অনি, ইয়াসিন, মোঃ শাহজালাল ভূইয়া, বাবু ভূইয়া, মোমেন ভূইয়া, বাদল ভূইয়াসহ অজ্ঞাত ৩৫ জন।

ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলার ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে ফতুল্লার মুন্সিখোলা এলাকায়। আসামীরা হলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি হাজী সুলতান আহম্মেদ, বাদল মিয়া, আবু তাহের, জাহাঙ্গীর হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, শামীম, সালামত গাজী, সানাউল্লাহ, রবিউল আউয়াল, জসিম উদ্দিন, হাবিব, শানু মিয়া, সাহেব আলী, মিজানুর রহমানসহ ২১ জন। তাদের সকলের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর থানা এলাকায়।

সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের পৃথক ৩টি মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।#