জাতীয় পার্টির নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে নারীর অভিযোগ

0
63
জাতীয় পার্টির নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে নারীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এক অসহায় নারী তার ক্রয়কৃত ৬ শতাংশ জমি জাতীয় পার্টির এক নেতার কবল থেকে উদ্ধারে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সুরিয়া বেগম নামে ওই নারীর ৬ শতাংশ জমি জোর পূর্বক দখলে নিতে চাইছেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল জাহের। জমির মালিকানা নিয়ে বন্দর থানায় গত ৯ মে অনুষ্ঠিত শালিস বৈঠকে আবুল জাহের সুরিয়া বেগমের ছেলে উজ্জলকে ওসি রফিকুল ইসলামের সামনেই হত্যার হুমকি দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে ওই নারী নিজের জমি ও ছেলের প্রাণ রক্ষার্থে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
সুরিয়া বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন।
বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৯ মে থানায় জমি নিয়ে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সুরিয়া বেগম ও তার প্রতিপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, জমির কাগজপত্র যার ঠিক থাকবে সেই জমির মালিক বলে গণ্য হবেন। আমরা সুরিয়া বেগমের কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছি। তিনি প্রকৃত পক্ষেই জমিটির মালিক। আমরা থানা পুলিশ অসহায় সুরিয়া বেগমের পাশে আছি। কেউ তাকে তা তার ছেলেকে কোন ধরণের হুমকি ধমকি দিয়ে থাকলে সেটি আমরা দেখবো।
অভিযোগে সুরিয়া বেগম বলেন, ২০০২ সালের ২০ জুন সাব কবলা দলিল মূলে সুরিয়া বেগম ৬ শতাংশ জমিটি ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জমিতে শাক সবজির চাষ করে ভোগ দখল করে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির নেতা আবুল জাহেরের লোকজন ওই জমির চারপাশে থাকা জমিতে বালু ভরাট শুরু করে। এক পর্যায়ে সুরিয়া বেগমের জমিতেও বালু ভরাট করতে থাকে। সুরিয়া বেগম প্রতিবাদ করলে আবুল জাহেরের লোকজন বলে, পরে হিসাব করে বালুর দাম দিয়ে দিতে। আবুল জাহের প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কিছু বলেননি। পরে তিনি তার জমিতে দেওয়াল দিতে গেলে আবুল জাহেরের লোকজন তাতে বাধা দেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় জমিতে তিনি বাউন্ডারী দেওয়াল দিলেও পরবর্তীতে আবুল জাহেরের লোকজন তার জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে চায়। এ নিয়ে গত ৯ মে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলামের কক্ষে শালিস বৈঠকে বসলে এক পর্যায়ে আবুল জাহের ক্ষিপ্ত হয়ে সুরিয়া বেগমের ছেলে উজ্জলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে আবুল জাহেরের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জমির কাগজপত্র যার সেই জমির মালিক হবে। তার দাবি সুরিয়া বেগমের কাগজপত্র ঠিক নেই। জনৈক সোবহান মোল্লা জমিটির দাবিদার। সোবহান মোল্লার সঙ্গে তিনি ব্যবসায়িক ভাবে জড়িত। তাই তিনি শালিসে বসেছিলেন। তিনি কাউকে হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।