নির্বিঘ্নে শেষ হলো মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান

0
25
নির্বিঘ্নে শেষ হলো মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পুণ্য স্নান উৎসব শেষ হয়েছে নির্বিঘ্নে। ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র হে লোহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এই মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্র পল্লব সহযোগে প্রতিবারের মতো এবারও দেশ বিদেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখের বেশি পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছে স্নান উৎসবে।
স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিলো। মোতায়েন ছিলো র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে সহ¯্রধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সফলভাবে স্নান লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান আয়োজনের পর সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, শুক্রবার মহাষ্টমী স্নানোৎসবের শুরু হয়ে শনিবার শেষ হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ১৬টি ঘাটে স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছিলো। কোথাও কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই এবারের পূণ্যস্নান সমাপ্ত হয়েছে। এ জন্যে আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জণ ডা: এহসানুল হক, বন্দর ইউএনও পিন্টু বেপরীসহ পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন, বিআইডব্লিউটিএ, বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের পূণ্যস্নান সফলভাবে আয়োজন করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকবে বলে আশা রাখি।
দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূণ্যার্থীরা লাঙ্গলবন্দে এসে আবার নির্বিঘেœ ঘরে ফিরেছে। এবার স্নানোৎসবে প্রায় ১৫ লাখের বেশি পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছিলো। পুণ্যার্থীদের স্নানোৎসব সম্পন্ন করতে ব্রহ্মপুত্র নদের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে। মহিলাদের কাপড় বদলানোর কক্ষ ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ব্যবস্থাসহ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ও বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং রান্না করা খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তার জন্য র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে সহ¯্রাধীক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিলো। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনে শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিলো। নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছিলো সিসি ক্যামেরা। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পুরো লাঙ্গলবন্দ মনিটরিং করা হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে লাঙ্গলবন্দ পরিদর্শণে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আসন্ন মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আগত ভক্তবৃন্দের নিরপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ২০১৫ সালের দূর্ঘটনাকে মাথায় রেখে এবার পূণ্যস্নানে ১৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং ঘাটগুলোতে নারী পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মহিলা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, যেহেতু পূণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে এখানে ভারত বাংলাদেশের লাখ লাখ পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে সেহেতু নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর থাকবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের চেকপোষ্ট থাকবে। সেই সঙ্গে থাকবে ৮টি পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারীও থাকবে উৎসবকে ঘিরে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও কাজ করবে। একটি সফল আয়োজনের জন্যে আমরা আশাবাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here