জয়গোবিন্দ ১৯৯৩ ব্যাচের উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরো বছরের বেতন পরিশোধ

0
35
জয়গোবিন্দ ১৯৯৩ ব্যাচের উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরো বছরের বেতন পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বাবা সারাদিন পরিশ্রম করে সংসারের সকল খরচ বহন করে, তার একার পক্ষে সংসারের সকল খরচ বহন করা আর সম্ভব হচ্ছিল না। আমার স্কুলের বেতন, বই কেনাসহ পড়ালেখার অন্যান্য খরচের জন্য সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন আমার বাবা-মা। আজ আমার এক বছরের স্কুলের বেতন পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। এবছর আমার বাবা-মাকে আমার স্কুলের বেতনের জন্য আর কোন খরচ দিতে হবে না। আমার বাবা-মার দুশ্চিন্তাও কমে যাবে। নগরীর জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে পুুরো বছরের বেতনের টাকা পরিশোধের বৃত্তি পেয়ে এভাবেই বলছিলেন জয়গোবিন্দ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ নয়ন বিশ্বাস। ‘প্ল্যাটফর্ম ’৯৩ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার দুপুরে জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে পালিত হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি উৎসব-২০১৯। জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ বৃত্তি উৎসবে মেধাবি ও দরিদ্র পরিবার থেকে আগত ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের সাড়া বছরের বেতন পরিশোধ করা হয়।

৯৩’ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়েল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হায়দার আলী পুতুল। ৯৩’ ব্যাচের বৃত্তি প্রদান কমিটির আহবায়ক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ রোকন উদ্দিন আরমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তোরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন ৯৩’ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হায়দার আলী পুতুল বলেন, ৯৩’ ব্যাচের ছাত্ররা শুধু বৃত্তি প্রদানই করলো না তারা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। তারা নতুন শিক্ষার্থীদের ভুলে যায় নি তার প্রমাণ রেখে যাচ্ছে। নতুনদের প্রতি তাদের যে দায়িত্ব তা তারা পালন করে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাক্তনদের এই উদ্যোগে নতুন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি আরো বেশী আগ্রহী ও উৎসাহী হবে বলে আমি আশাবাদী। ৯৩’ ব্যাচের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রাক্তন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মোহা: তোরিকুল ইসলাম বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। এটি শুধু বৃত্তি প্রদানই নয় নতুন শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষার প্রতি আরো বেশী উদ্বুদ্ধ করা। আমি ৯৩’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রতি সাধুবাদ জানাই, তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি খেয়াল রেখে এমন মহৎ একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ রোকন উদ্দিন আরমান বলেন, আমাদের এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগীতার পরিবেশ তৈরি করা, যাতে করে তারা লেখাপড়ার প্রতি আরো বেশী মনোযোগী হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা শুধু মন দিয়ে লেখাপড়া করবে এবং স্কুলের নাম উজ্জল করবে। এই প্রতিষ্ঠানকে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রথম সারির বিদ্যালয়ে এনে দাড় করাবে, ্আমরা তোমাদের জন্য এর চেয়েও বড় বড় এবং ভালো ভালো উপহার দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে ২৫ জন শিক্ষার্থীর পুরো বছরের বেতন হিসাবে মোট ১ লক্ষ ৪ হাজার ২শত টাকার চেক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির হাতে তুলে দেয়া হয়। ৯৩’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ চেক তুলে দেন।