নারায়ণগঞ্জ হবে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত

0
78
নারায়ণগঞ্জ হবে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি মাদক ও চাঁদাবাজী মুক্ত হবে। সে লক্ষ্যে আমি অচিরেই মাঠে নামবো। ভালো মানুষদের নিয়েই কাজ করতে চাই। অপরাধীদের কোন ছাড় দিব না। কে বিএনপি করে, কে জামায়াত করে, কে আওয়ামীলীগ করে, কে জাতীয় পার্টি করে আমার কাছে দেখার বিষয় না, আমার কাছে দেখার বিষয় কে ভালো মানুষ আর খারাপ মানুষ। ভালো মানুষ নিয়ে থাকতে চাই।’’

তিনি বলেন, ‘‘অনেক মাদক বিক্রেতা আছে আমার সামনে ফেরেশতা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত সে মাদক বিক্রেতা। এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। সবাইকে আমার পক্ষে একা চিহ্নিত করা সম্ভব না। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই। সে কারণেই আমি মাঠে নামবো। প্রত্যেকটি এলাকা পায়ে হেঁটে ঘুরবো। আমাদের পরের প্রজন্ম এই সুবিধা ভোগ করবে কিন্তু এই প্রজন্মকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। কারা করছে? যারা মাদক বিক্রি করে যারা সন্ত্রাস করে তারা। কেউ হয়তো আমার শেল্টারে আছে আবার কেউ হয়তো আরেকজনের শেল্টারে আছে।’’

‘নারায়ণগঞ্জবাসী আমাদের অনেক দিয়েছে। তাঁদের ঋণ কোনভাবেই পরিশোধ করতে পারবো না। আমি আগামীতে নির্বাচন করবো কিনা জানিনা তবে না করার সম্ভাবনা বেশি। আমরা তিন ভাই এমপি হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ আমাদের নারায়ণগঞ্জ। আমার দাদা, মা, বড় ভাই সবার কবর এখানে হয়তো আমি মারা গেলে আমার কবরও এখানে হবে। আমি কিছু করতে চাই নারায়ণগঞ্জের জন্য। নারায়ণগঞ্জটাকে গুছাতে চাই, এই নারায়ণগঞ্জ আমাদেরকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে অনেক সম্মান দিয়েছে। আমাকে দুই একবার মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়েছিল আমি নেই নাই, এটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। এক বাবার তিন ছেলে এমপি হয়েছে, বাবা ছিলেন দাদা ছিলেন, অনেক বেশি দিয়ে ফেলেছেন আমাদেরকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ। আমরা এই ঋণ শোধ করতে পারবোনা কখনো তাই কিছু করতে চাই। আমরা যেই সুবিধা পাইনি নারায়ণগঞ্জবাসী ও আমাদের পরের প্রজন্ম যেন তা পায় সেজন্য কাজ করতে চাই। আমি আপনাদের কাছে এমন দোয়া চাই যাতে মৃত্যুর পরেও আল্লাহ আমাকে পুরস্কৃত করেন।’’ বক্তব্যে যোগ করেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘‘এই নারায়ণগঞ্জে যেন আমরা আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারি সেজন্য আমরা কাজ করছি। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নত করতে পারেনা। আমাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ১ লাখ ১০ হাজার ছেলে ঢাকায় পড়তে যায়। এটা একটি কঠিন ব্যাপার এই ছেলেমেয়েদের জন্য। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেই ঢাকায় এই খরচ যোগানো সম্ভব হয়না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছি। এই টার্মসের (ক্ষমতাকালীন সময়) মধ্যেই আমি বিশ্ববিদ্যালয় করবো ইনশাল্লাহ। নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল করতে চাই। ইতোমধ্যে চাষাঢ়া হতে আদমজীর পুরাতন রেল লাইনটিতে সড়ক হবে। সেটার প্রকল্প পাশ হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সোডিয়াম বাতি জলবে। এ রুটে বুলেট ট্রেন চলবে যাতে ১৫ মিনিটে যাতায়াত করা যায়। নারায়ণগঞ্জে প্রথম সিঙ্গাপুরের মত ইলেকট্রিক ট্রেন যেটা উপর দিয়ে যায় সেটা করতে যাচ্ছি। নদীর তীরে রাজধানীরে রেসডিয়ানশিয়াল স্কুলের মত একটি স্কুল করতে চাই।’’

দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। নরসিংদীর মাধবতীতে ড্রিম হলিডে পার্কে ওই বনভোজন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জকে দুটি জিনিস গর্বিত ও পরিচিত করেছে একটি হলো পাট আরেকটি হলো হোসিয়ারি।