সারা জেলায় পুলিশের সতর্ক নজরধারী

0
40
সারা জেলায় পুলিশের সতর্ক নজরধারী

স্টাফ রিপোর্টার : তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখন কেউ অভিযোগ করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। জেলার সব কয়টি থানায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তালিকায় সব দলের সন্ত্রাসীরা রয়েছে এবং নির্দলীয় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীরাও রয়েছে। তবে হালনাগাদকৃত তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।

কারন দেশে অন্যতম বড় বিরোধী দল বিএনপি দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে রয়েছে, তাই এই দলের সন্ত্রাসীরা অনেকটাই নিস্ক্রিয় হয়ে পরেছে। তবে প্রায় সব থানায়ই বিএনপির কিছু সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসা এবং সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের সাথে মিশে নানা রকম অপরাধের সাথে জরিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের উর্ধতন সূত্র।

তাই সারা জেলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলেই সাথে সাথে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। কারন তিনি মনে করেন এই জেলায় যারা বড় সন্ত্রাসী তাদের বিরুদ্ধে এমনিতেই কেউ থানায় যেতে সাহস পান না। তারপর যারা থানায় যান তারা নিতান্তই দায়ে পরে যান। দেয়ালে যখন একেবারে পিঠ ঠেকে যায় তখনই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থানায় যান সাধারন মানুষ। এ কারনেই নতুন তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জে এরই মাঝে অনেকটা কমে এসেছে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা। এরই মাঝে অনেক সন্ত্রাসী ধরা পরেছে। বাকীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আইনশৃংখলা বাহিনী এখন এতোটাই কঠোর অবস্থানে চলে গেছে যে এই শহরে যারা এখন রাজনীতির সাথে জরিত তারা সবাই চিন্তিত হয়ে পরেছে। কেনোনা ভুক্তভোগী যারাই এখন থানায় গিয়ে অভিযোগ করছেন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যাবস্থা নিচ্ছে।

ফলে নানা ভাবে এতোদিন যারা নির্যাতীত হয়ে এসেছে তারাই এখন সাহস সঞ্চার করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করছে। ফলে এই শহরের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এখন একের পর এক মামলা হচ্ছে। এরই মাঝে বেশ কয়েকজন রাগব বোয়ালেল বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে।
এদিকে এরই মাঝে পুলিশের অভিযানে এমন অনেকে গ্রেফতার হয়েছে যে তারা কখনো গ্রেফতার হতে পারে এটা ছিলো সাধারন মানুষের ধারনার বাহিরে। এদের মাঝে অন্যতম হলেন কাউন্সিলর ডিস বাবু, জয়নাল প্লাজার মালিক আল জয়নাল, স্বিদ্ধিরগঞ্জের যুবলীগ নেতা পিচ্ছি নজরুল সহ আরো বেশ কয়েকজন।

এছাড়া মামলা নেয়া হয়েছে ভুইঘর এলাকা ও রুপায়ন টাইনের ত্রাস হিসাবে পরিচিত ডন নাজিমুদ্দিন ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী মীরু সহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বেশ আটাঘাট বেধেই সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল অভিযান পরিচালনা করছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহল থেকে বাহবাও পাচ্ছেন। তবে অনেকে আবার এই কথাও বলছেন যে পুলিশ সুপার হারুন যখন থাকবেন না তখন কি হবে। কারন পুলিশের চাকুরী হলো বদলীর চাকুরী। তাই পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদতো আজ হোক কাল হোক বদলী হবেন। তাই আজ যারা সাহস করে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তিনি বদলী হবার পর তাদের কি হবে? তারা আবার এসব সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবেন কিনা সেই প্রশ্ন রয়েছে।

কারন গ্রেফতারকৃত এবং পলাতক সন্ত্রাসীরা একদিন যে ফিরে আসবে এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। কারন গ্রেফতারকৃতরা জামিন পাবেন আর পলাতকরাও পুলিশ সুপার চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসবেন। তাই ওই সময় কি হবে এই শংকা রয়েছে অনেকের মাঝেই। তবে সাধারন মানুষের অনেকে মনে করেন পরে কি হবে সেটা পরের বিষয়।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এই শহরের মানুষের প্রচলিত ধারনা ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এখন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাই তিনি পথ দেখাচ্ছেন বলেই অনেকে মনে করেন। কেনোনা এরই মাঝে তিনি উদাহরন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। বর্তমানে এই শহরের মানুষ বেশ স্বস্তিতেই আছেন বলে অনেকে মনে করেন।
এদিকে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় এক ধরনের টাউট বাটপার এখনো সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে এসব টাউটরা সাধারন মানুষের জমিজমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই জমিজমা নিয়ে সরল সহজ নীরিহ সাধারন মানুষ হয়রানীর মাঝে রয়েছেন। তাই পুলিশ সুপার এই দিকটায়ও নজর দেবেন বলে ভুক্তভোগী সাধারন মানুষ আশা করেন।