আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য : সরকারি রাস্তাসহ ১৫০ শতাংশ জমি বিক্রি মামলা

0
75
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য : সরকারি রাস্তাসহ ১৫০ শতাংশ জমি বিক্রি মামলা

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি রাস্তাসহ ৪৩ শতাংশ জমি দখল করে বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হাসান খোকন, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মনিরুজ্জামান বাদশা, ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া সরকারি রাস্তা বন্ধ করে বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেয়ারিয়া এলাকায়। ভুমিদস্যু এ চক্রের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও এ বাহিনীর বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানা ও নারায়ণগঞ্জ আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, রাতের আধারে ভূমিদস্যুবাহিনীর প্রধান ইমন হাসান খোকন, মনিরুজ্জামান বাদশা মেম্বার, সালাহউদ্দিন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে সরকারি রাস্তাসহ বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করে। রাস্তাটি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের নির্বাচনী ইস্তোহারে শুক্কুর আলীর দোকান থেকে পাগলনীর বাড়ি পর্যন্ত পাকাকরণ সেই রাস্তাটি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দাপটে মনিরুজ্জামান বাদশা, ইমন হাসান খোকন, সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া, আলম, স্বপন, জুলহাস আরএফএল কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ভুমিদস্যু বাহিনী নিজেরাই বাউন্ডারী দেওয়ালের ভিতরে থাকা সাইনবোর্ড ভেঙে নালিশা জমির বাদি মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় লোকজনকে হয়রানি করতে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। নালিশা জমির আকার আকৃতি অপরিবর্তিত রাখতে ১৪৫ জারি করেন আদালত। ৩০ দিনের মধ্যে বিজ্ঞ আদলত রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), আরএফএল কোম্পানীকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। সম্প্রতি মজিবুর রহমানসহ তার লোকজনকে হত্যাসহ নানা হুমকি প্রদান করছে চক্রটি। পরে মজিবুর রহমান বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, র্দীঘদিন ধরে ভুমিদস্যু এ চক্রটি উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবেড়, কেয়ারিয়া, ইছাপুরা এলাকায় নিরীহ লোকজনের জমি জোরপূর্বক দখল করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার ডুমনী এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে মজিবুর রহমানের ৪৩ শতাংশ জমি খাড়া দলিল সম্পাদন করে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কাছে ১৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান বাদি হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ইমন হাসান খোকন, মনিরুজ্জামান বাদশা, আলম, শফিকুল ইসলাম স্বপন, সালাহউদ্দিন ভুঁইয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
উপজেলার কেয়ারিয়া পাগলনীর বাড়ির বাসিন্দা আতাউল্লাহ জানান, তাদের ১৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ভুমিদস্যু খোকন, বাদশা, আলম, স্বপন ও সালাহউদ্দিন ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করে নেয়। ঘটনার তিনদিন পর আতাউল্লার বাবা চান্দু মোল্লা ও মা সাজেদা বেগম স্টোক করেন। হাসপাতালে নেয়ার পর দুইজনকেই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে চান্দু মোল্লা রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছিলেন।
ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান জানান, তিনি ৪৩শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখল করেন। একই মালিক সাজিয়ে ভুয়া দলিল সম্পাদন করে এলাকার ভুমিদস্যুরা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রচিন্দ্র নাথ পলের নিকট ১৮ কোটি টাকায় বিক্রি করেন। পরে সরকারি রাস্তাসহ ওই জমি দখলে নিতে বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করছেন ভুমিদস্যুরা। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে দেওয়ানী মামলা রয়েছে। অভিযুক্তসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাব-রেজিষ্টারকে ৩০ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার নোটিশ করেন।