রূপগঞ্জে চাঁদার দাবীতে ট্রান্সপোর্ট অফিসে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা ১০ লাখ টাকা লুট

0
13
রূপগঞ্জে চাঁদার দাবীতে ট্রান্সপোর্ট অফিসে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা ১০ লাখ টাকা লুট

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী প্রকাশ্যে হামলা করে শ্রমিকদের বেতনের ১০ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর বাহিনী।
এছাড়া হামলাকারীরার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে অন্তত ৩ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়। বাধা দেয়ায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সহ ৪ কর্মচারীকে পিটিয়ে জখম করে তারা। এ ঘটনায় পুলিশ উক্ত বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে। ১৪ মে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তারাব পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জেকে ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন জানান, দেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ট্রেড কোম্পানী তারাব পৌরসভার কাজীপাড়া বালুরমাঠ এলাকায় জেকে ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন চট্রগ্রাম বন্দর থেকে কার্গো জাহাজে আসা ভুট্টা, সয়াবিন দানা, গম ও ভূষি শত শত ট্রাকে করে এখানে লোড আনলোড করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোশারফ হোসেনের কাছে তারাব পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তারাব পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এককালীন ৫ লাখ ও মাসিক ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছে।
ম্যানেজার মোশারফ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাউন্সিলর আনোয়ারের নিদের্শে তার বাহিনীর সদস্য হাত কাটা জাকির, রায়হান, ইসলাম, গুই রাকিব, মতিন, রানা, মোহন, ইকবাল, রাসেল ও তেরেনামসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০জন সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
এসময় তারা ব্যাপক ভাংচুরসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৯টি মোবাইল সেট লুটে নেয়। একপর্যায়ে সিন্দুকে রাখা ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। বাধা দেয়ায় হামলাকারীরা ম্যানেজার মোশারফ, কর্মচারী ফোরকান, রেদোয়ান ইসলাম পাপন ও সাহাবুদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই বাহিনীর অন্যতম সদস্য হাত কাটা জাকির ও রায়হানকে আটক করে।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, কাউন্সিলর আনোয়ার একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। সে তার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রনে গড়ে তুলেছে নিজস্ব বাহিনী। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।