আজ কাঁচপুর ও ভুলতা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

0
38
আজ কাঁচপুর ও ভুলতা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতার উড়াল সেতু ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু। ১৬ মার্চ শনিবার প্রন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি সেতুর উদ্বোধন করবেন।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী আলিউল হোসেন জানান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এশিয়ান হাইওয়ের (বাইপাস) ভুলতা উড়াল সেতুর গাজীপুর-মদনপুর সড়কের একটি লেন ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বেধন করবেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪ লেন বিশিষ্ট তৃতীয় তলা ভুলতা ফ্লাইওভার একটি মেগা প্রকল্প। এতে করে এখানকার যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। কমবে সাধারন মানুষের ভোগান্তিও।
স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলার ভুলতা এলাকায় রয়েছে দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তহম পাইকারি কাপড়ের বাজার ‘গাউছিয়া মার্কেট’। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।
ভুলতা ফ্লাইওভারটির একপাশ উদ্বোধন শেষে খুলে দেওয়া হলে যানজট নিরসন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে সারাদেশের এ উপজেলার সাথে সারাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়বে। ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতু নির্মাণ হওয়ার কারণে এ এলাকায় জমির দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুন।
পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় যানজট তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এক ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা।
ভুলতা ফ্লাইওভারের কাঞ্চন-মদনপুর লেনের উদ্বোধন হলে যানজট অনেকাংশে যাবে বলে তিনি মনে করেন। এতে করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
এ ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন হলে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম সহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ সহ উত্তর পশ্চিমাঞ্চল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা জনগণের যাতায়াত ও পন্য পরিবহন দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হবে।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে ২৪০কোটি টাকা ব্যায়ে ৪ লেন বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতুটি নির্মাণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেছিল সরকার।
গবেষক, কলামিস্ট লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, ‘ভুলতা ফ্লাইওভারটি রূপগঞ্জবাসীর জন্য একটি স্বপ্নের ফ্লাইওভার। আর এ ফ্লাইওভারটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে সকলে। চালুর পর যানজট মুক্ত থাকবে ভুলতা এলাকা।’
কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পূর্ণবাসন প্রকল্পের পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দুটি প্রধান নগর রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এতে অতিক্রম করতে হয়েছে শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদী। ফলে ১৯৭৭, ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদীর উপর দিয়ে নির্মাণ কারা হয় ৪ লেন বিশিষ্ট কাঁচপুর সেতু এবং ২ লেন বিশিষ্ট মেঘনা ও গোমতী সেতু। দেশের অর্থনৈতিক লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ফলে যানবাহনকে ধারণ কার জন্য মহাসড়কে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু সেতু তিনটি অসমর্থ্য হওয়ায় সারা বছরই যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু, মেঘনা দ্বিতীয় সেতু ও গোমতী দ্বিতয়ি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এর মধ্যে মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে।
কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম বলেন, চার লেনের কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাইয়ের হলেও পাঁচটি পিলারের ওপর নির্মিত নতুন এ সেতুটি স্টিল গার্ডারের। ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মাণ করা সেতুটির প্রধান ঠিকাদার ছিল যৌথভাবে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান-ওবায়শি, শিমিজু, জেএফআই ও আইএইচআই। আর সেতুর উপঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হজার ২১৫ কোটি টাকা। মোট ব্যায়ের ৭৫ ভাগের জোগান দেয় জাইকা। আর ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় বাংলাদেশ সরকারের। নতুন এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৩০ মিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ১ মিটার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here