মতির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

0
34
মতির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির শাসনামলে নির্যাতনের শিকার আওয়ামীলীগ কর্মী ইসমাইলের বড় ভাই মো: ইব্রাহিম। ওই অভিযোগে তিনি প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলর মতির অত্যাচার ও জুলুম থেকে মুক্তির আবেদন জানান। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলর মতির তান্ডব এবং থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি এবং দুই সহযোগী মানিক ও সেলিমের নাম বাদ দেয়ার বিষয়টিও পুলিশ সুপারকে অবগত করেন।

লিখিত অভিযোগে মো: ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, গত ৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নতুন বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে কাউন্সিলর মতি তার ছোট ভাই ইসমাইলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। কাউন্সিলর মতির নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটলেও মতির ছোট ভাই মাহাবুব বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। কিন্তু আমরা মামলার এজাহারে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি এবং দুই সহযোগী মানিক ও সেলিমের নাম দিলেও থানা পুলিশ তাদের নাম বাদ দিয়ে মামলাটি রেকর্ড করে। ৮ জানুয়ারী রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির কাঠ, টিন, খুটি ইত্যাদি খুলে নিয়ে যায় এবং মতির নির্মাণাধীন মার্কেটে ওইসব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। পরে আমরা এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। প্যানেল মেয়র মতি অনেক ক্ষমতাধর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা নেয়া যাবেনা বলে পুলিশ আমাদের সাফ জানিয়ে দেয়।

জানা গেছে, আদমজী নতুন বাজার এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের সঙ্গে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির অনুগামী আবদুর রাজ্জাকের ৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই শালিসী বৈঠকও হয়। গত ৩ জানুয়ারী সকাল ১১টায় উভয় পক্ষের লোকজন আবারো জড়ো হলে প্রথমে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে প্যানেল মেয়র মতি অকথ্য ভাষায় হান্নান ও ইসমাইলকে গালাগাল করে। তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে মতিকে কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে হান্নান, ইসমাইল, মজিবর, সানু, আলমগীর, রোকেয়া, সুরভী, রাজ্জাক মিয়া, মনির হোসেন, সোহেল, ফারুক হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। মতিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জানুয়ারী পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন মতির ভাই ও রোকেয়া বেগম। মতির ভাই মাহবুবুর রহমান মামলায় উল্লেখ করেন, তার ভাই প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি ৩ জানুয়ারি সকালে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে বের হয়। এসময় পথিমধ্যে ইসমাইল, হান্নান, ফারুক, মজিবর, নাঈম, আলমগীর, হাসান, মোস্তফাসহ অজ্ঞাত ১৫ জন মতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এতে সে মারাত্মক আহত হয়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় ফারুককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপরদিকে মতি গংদের আসামি করে পাল্টা মামলা করেছেন রোকেয়া বেগম। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন সুমিলপাড়া নতুন বাজার আবেদ আলীর হাজী বাড়িতে তার পৈত্রিক সাড়ে ৩ শতাংশ জমি রয়েছে যা দখল করতে সেখানে যায় মামলায় বিবাদীরা এবং দেশিয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা করে তাদের বাড়িঘরের ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয় বলেও মামলা উল্লেখ করা হয়। মামলায় বিবাদীরা হলেন- রাজ্জাক, মনির, রফিকসহ অজ্ঞাত ১০ জন। এরা সকলেই প্যানেল মেয়র মতির লোক।

এদিকে সংঘর্ষের আগে জমির মালিক ইসমাইলের মুঠোফোনে কল করেন প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির সহযোগী মানিক। প্রথমে ইসমাইলকে কাউন্সিলর অফিসে আসতে বলেন মতির সহযোগী মানিক। তখন ইসমাইল মানিককে বলে সে এখন নামাজে যাবে মাগরিবের নামাজের পরে সন্ধ্যায় কাউন্সিলর অফিসে আসবেন। তখন মানিক প্যানেল মেয়র মতিকে ফোন দিলে ইসমাইল প্যানেল মেয়র মতিকে সালাম দেয়। কিন্তু মতি সালামের জবাব না দিয়েই তাকে বলে, এক্ষুনই আসবি নাকি লোক দিয়া ধরাইয়া আনমু। ইসমাইল তাকে নামাজের পরে কাউন্সিলর অফিসে আসবে বলে জানালে মতি ক্ষুব্দ হয়ে তাকে বলে এখনই না আসলে তাকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনা হবে। মতি তখনই তার অনুগামীদের নির্দেশ দেন ইসমাইলকে পিটাতে পিটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনার জন্য। তখন মতি ইসমাইলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে তাকে জিজ্ঞেস করে তোর জন্মদাতা কয়টা। তুই আমারে চিনস? তখন ইসমাইল মতিকে বলে ভাই আপনি এভাবে গালাগালি করছেন কেন। আপনি কথা ভাল মতো বলেন। তখন মতি আরো ক্ষুব্দ হয়ে ইসমাইলকে বলে তোকে কেন এর জবাব দিতে হবে। তুই পার পেয়ে গেছিস বলে মনে করছস। আমি তোরে দেইখ্যা দিমু। তোর জায়গা…তোর…। তুই এখন আমার অফিসে হাজির হবি। তোর বাপে তোরে অর্ডার দিসে আমি তোর বাপ তোরে পিটামু তুই এখন অফিসে আয়। তোরে আমি কি করি তুই দেখবি। এই বলে প্যানেল মেয়র মতি ফোন রেখে দেন।

উল্লেখ্য ইসমাইলের বড় ভাই মোঃ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সালে বিএনপির শাসনামলে বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে দৃষ্টি হারান। তাকে তৎকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here