ড্রেজার জুনিয়র হাই স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সাংসদ সেলিম ওসমান

0
13
ড্রেজার জুনিয়র হাই স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সাংসদ সেলিম ওসমান

বিশেষ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এলাকার গণমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি স্কুলটি পরিদর্শনে যান। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করে স্কুলের আয়-ব্যয় সম্পর্কে জানতে চান। সেই সঙ্গে তিনি প্রয়োজনে স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেজন্য তিনি লিখিত ভাবে ড্রেজার পরিদফতরের কর্মকর্তাদের তার কাছে আবেদন করতে অনুরোধ করেন।
গত ৩১ জানুয়ারি ড্রেজার পরিদফতরের সিদ্ধান্তে ৩৩ বছরের পুরনো স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এতে স্কুলের তিনশ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে একটি রিটও করা হয়। তবে এর আগেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্দেশে স্কুলটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে গতকাল স্কুল পরিদর্শনে গেলে সাংসদ সেলিম ওসমানকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ওই সময় সাংসদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলাম, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশরাফি, নাসিকের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, ড্রেজার পরিদপ্তরের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল আলম, নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার মালা ও শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনের পর শিক্ষা অফিসারসহ সবাইকে নিয়ে সভা করেন এমপি সেলিম ওসমান। এসময় তিনি স্কুলটির বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থী সংখ্যা, আয় ব্যয়ের খোঁজ খবর নেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার মালা সাংসদকে জানান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমদ গত ৪ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছেন। তিনি ওই চিঠিটি সাংসদকে দেখান। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্কুলটি পরিচালনার বিষয়ে লিখিত অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে সেলিম ওসমান বলেন, স্কুলটি আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার পরিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্ত আর্থিক বিষয় দেখিয়ে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাবান্ধব। যেহেতু শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এজন্যই আমার এখানে আসা। বন্ধ ঘোষণার পর স্কুলটি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও স্কুলটি কিভাবে চলবে, কারা পরিচালনা করবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা ছিলনা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার কর্তৃপক্ষ যদি আমার কাছে লিখিত ভাবে দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমি (সংসদ সদস্য) ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা মিলে যৌথভাবে সভা করে সিদ্ধান্ত নিবো। সেক্ষেত্রে স্কুল ও এর সামনের মাঠটিসহ স্কুলের জন্য লিখিতভাবে বরাদ্দ দিতে হবে। স্কুলটি যদি তারা পরিচালনা করতে না পারে তাহলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনকে স্কুলটি পরিচালনার জন্য লিখিত অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ স্কুলটি অত্যাধুনিকভাবে চালাতে হলে লিখিত সম্মতিটা জরুরী ভাবেই দিতে হবে।#