বক্তাবলীতে জমি দখলে নিতে স্বামী-স্ত্রীকে পেটাল আ’লীগ নেতা আফা কন্ট্রাক্টর ও তার ছেলে

0
212
বক্তাবলীতে জমি দখলে নিতে স্বামী-স্ত্রীকে পেটাল আ’লীগ নেতা আফা কন্ট্রাক্টর ও তার ছেলে

বিশেষ প্রতিনিধি : বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আফার ছেলে মহিউদ্দিন তাসলিমা বেগম এবং তার স্বামী পিয়ার আলীকে বেধরক পিটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাসলিমা বগম। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারী)  বিকালে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেটের এই প্রতিনিধির কাছে মোবাইল ফোনে এই অভিযোগ করেন। ২৫ শতাংশ পৌত্রিক সম্পত্তি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আফা কন্ট্রাক্টর ও তার ছেলে মহিউদ্দিন- এ অভিযোগ তাসলিমার। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার কারণে পুলিশের সাহায্যও তারা পাচ্ছেন না।

তাসলিমা বেগম জানান, গতকাল বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিনের ছেলে মহিউদ্দিন তাকে ও তার স্বামীকে যেতে বললে তারা সকাল ১১টায় বক্তাবলী লঞ্চঘাট সংলগ্ন আফাজ উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান।

সেখানে তাসলিমা বেগমকে এবং তার স্বামী পিয়ার আলীকে বেদম মারধর করা হয়। আফাজ উদ্দিন নিজে এবং তার ছেলে মহিউদ্দিন তাদেরকে মারধর করেন বলে তিনি জানান। তাসলিমা বেগম আরো জানান, এর আগে নারায়ণগঞ্জেরিএকটি পাত্রকায় তার বরাত দিয়ে আফা কন্ট্রাকটরের বিরুদ্ধে যে রিপোর্টটি ছাপা হয়েছে সেই বক্তব্য তার (তাসলিমার) ছিলো না এবং যে রিপোর্টটি লিখা হয়েছে সেটি মিথ্যা। সাংবাদিক মিথ্যা রিপোর্ট লিখেছে।

তাসলিমা বেগম এই বক্তব্য দিলে সেটি রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কিন্তু তাসলিমা বেগম এতে রাজি না হয়ে বলেন, আপনারা আগে আমার জমির সমস্য সমাধান করে দেন তারপর আমি যা বলার বলব। আমি সাংবাদিকে বিরুদ্ধে কিছু বলব না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আফা কন্ট্রাকটরের ছেলে মহিউদ্দিন উঠে তাসলিমা বেগমকে মারতে শুরু করে।

এ সময় তাকে বাঁচাতে পিয়ার আলী এগিয়ে এলে আফা কন্ট্রাকটর এবং তার ছেলে মহিউদ্দিন স্বামী স্ত্রী দু’জনকেই মারধর করে। এবং এই বলে হুমকি দেয় যে তাদের যে সন্তান বক্তাবলীতে অটো চালায় তাকে হত্যা করা হবে। মূলত এভাবেই গতকাল বক্তাবলীর এই নীরিহ নারীকে এবং তার স্বামীকে নির্যাতন করা হয়।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধার পর আফা কন্ট্রাকটরের মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন, তাসলিমা বেগমের বিষয়টি শনিবার বিচার শালিশের মাধ্যমে মিমাংশা করে দেয়া হবে। তিনি এ সময় এই প্রতিনিধিকেও বিচারে উস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেন এবং বলেন আর কোনো রিপোর্ট কইরা আপনারা ভেজাল লাগাইয়েন না।

আপনেও থাকেন, আমরা মিমাংশা কইরা দিমু। তাসলিমা বেগম এবং তার স্বামীকে মারধর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছেলে মহিউদ্দিন একটা থাপ্পর দিছে আর সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার ছেলেকে দশটা থাপ্পর দিছি। একশ জন মানুষ স্বাক্ষী আছে। তিনি আরো বলেন তার বিরুদ্ধে টাকা পয়সা খেয়ে বিচার শালিস করার যে অভিযোগ করা হয়েছে এটা সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, অভিযোগ রয়েছে বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রসনন্নগর গ্রামের তাসলিমা বেগমের স্বামী পিয়ার আলী পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি দখল করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ওসমান, দবেশ আর ইয়াকুব গং। ফলে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য শালিস বৈঠকের আয়োজন করলে ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকে আফা কন্ট্রাকটর বিবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেন। আর আফা কন্ট্রাকটরের নির্দেশে উল্লেখিত বিবাদীরা তাসলিমা বেগম এবং তার স্বামীর জমি দখল প্রক্রিয়া শুরু করে।

তারা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে মারধর করা হয়। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানায় একাধিক সাধারন ডায়েরী এবং অবিযোগ করা হলেও পুলিশ যথাযথ কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি। পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চাইলেও প্রভাবশালী আফা কন্ট্রাকটরের কারনে পরে আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর কাছে বিচার চাইলেও তিনি নির্বাচনের পরে মিমাংশা করে দেবেন বলে উভয় পক্ষকে জানান। কিন্তু বিবাদীরা তাতেও কোনো রকম কর্নপাত না করায় তাসলিমা বেগম এবং তার স্বামী পিয়ার আলী আদালতের স্মরনাপন্ন হন। বিষয়টি এখন নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু তারপরেও বিবাদী ওসমান গং এই আফা কন্ট্রাকটরের প্রশ্রয়ে থেকে ঘর তুলে তাদের জায়গা দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।

ফলে শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না পেয়ে তাসলিমা বেগম নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। এবং তার অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক শীতলক্ষা সহ অন্যান্ন মিডিয়ায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়। আর এই রিপের্ট প্রকাশের জের ধরে তাদেরকে ডেকে নিয়ে নতুন করে মারধর করা হলো। ##