১২ মে ২০১৬ সালে প্রথম আলোর রিপোর্ট : এসপি হারুন থানার ওসিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
1385
এসপি হারুন থানার ওসিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১২ মে ২০১৬ সালে প্রথম আলোর রিপোর্ট : গাজীপুরে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একখ- জমির ‘আমমোক্তারনামা’ জোর করে রেজিস্ট্রি করে দিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান ও দুজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে আরও ১৪ জনকে।
গত মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা এম দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুরের ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি করেছেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন ঢাকার দক্ষিণ বেগুনবাড়ীর মো. দাইম খাঁ, কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবুল বাশার ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী আমির হোসেন, সামছুল হক খান, শের আলী পাঠান, সামছুল হক দেওয়ান, সাহাবুদ্দিন বাচ্চু, ইসমাইল খান, ওমর ফারুক, হারুন খান, আক্রাম সিরাজী, লুৎফুন্নাহার, সালেকুজ্জামান, জহিরুন্নেছা, এসপি হারুন, ওসি রেজাউল, এসআই আকরাম হোসেন ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই মিঠু শেখ।
বাদীর আইনজীবী দিলারা সুলতানা বলেন, ওই রেজিস্ট্রির কার্যকারিতার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং মামলার ১ থেকে ১৪ নম্বর আসামির প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ, পুলিশ সুপারসহ অন্যদের প্রতি সমন জারি করেছেন আদালত।
মামলার বাদী এম দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্যমতে, এই ১৮ বিবাদী পরস্পর যোগসাজশে তাঁকে জিম্মি করে ভোগড়া মৌজার ঢাকা-বাইপাস সড়কের পাশে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে আট বিঘা জমির আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য করেন। এর আগে তাঁর মেয়ে গাজীপুর আদালতের আইনজীবী দিলারা সুলতানাকে আদালত থেকে বাসায় ফেরার সময় পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা করে।
বাদী অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ির মালামাল জব্দের কোনো পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও গত বছরের ২২ জুন অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে হীরা ও স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্র, দলিলপত্রসহ প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি মামলার বিষয়টি জানেন না। মামলার বিবরণ জানানোর পর তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এখানে পুলিশ কোনো পক্ষ নয়। তবু কেন মামলা করা হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
গত ২১ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ও এক ইউপি সদস্য প্রার্থী খুন হওয়ার প্রেক্ষাপটে গাজীপুরের এসপি হারুন ও দুই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসপি হারুনকে আবার গাজীপুর জেলায় যোগদানের নির্দেশ দেয়। এরপর গত ৮ মে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের আইনি জটিলতায় তিনি যোগ দিতে পারেননি।
জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল চলা অবস্থায় প্রত্যাহার করা পুলিশ কর্মকর্তা হারুনকে পুনর্বহাল করা বিধিসম্মত হয়নি বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ফলে আগামী ৪ জুন ষষ্ঠ দফার ইউপি নির্বাচন শেষ হওয়া এবং নির্বাচনের পর ১৯ জুন গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত তাঁর গাজীপুরে যোগদানের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে গেছে। (প্রথম আলো আর্কাইভ থেকে নেয়া)