১৪ জুনের মধ্যে সকল শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে – সেলিম ওসমান এমপি

4
55
১৪ জুনের মধ্যে সকল শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে - সেলিম ওসমান এমপি

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘যারা ব্যবসা করেন তারা মনে রাখবেন, এই নারায়ণগঞ্জে আমরা ১৪০০ কোটি টাকা শ্রমিকদের পেছনে ব্যয় করে থাকি। নুন্যতম বেতন ৭ হাজার টাকা করে যদি ধরি তাহলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ আমাদের এই এলাকায় কাজ করে। আমাদের কাজটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেএমইএকে আলাদা সেক্টর করে হোসিয়ারি থেকে আজকে আমরা নিটওয়্যার রপ্তানি করতে পারছি।’
নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি সেলিম ওসমান গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আগামী ১৪ জুনের মধ্যে অবশ্যই গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করে সকল গার্মেন্টস ছুটি ঘোষনা করতে হবে। কোন অবস্থাতেই ১৪ জুনের পর কোন কারখানা চালু করা যাবে বলেও ঘোষনা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ৯জুন সন্ধ্যা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে দ্বিতীয় তলায় বিকেএমইএর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমরা করতে পারি বলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের মাধ্যমে যারা ব্যবসা করেন তাদের ব্যবসা কিন্তু মোটামুটি ভালো হচ্ছে। এখানে নারায়ণগঞ্জের মানুষ কিন্তু খুব কম। বাইরের মানুষ এখানে এসে কাজ করে। তার জন্য সবার কাছে অনুরোধ রইলো, ১৪ তারিখের পরে কোন শ্রমিকের বেতন বকেয়া থাকবে না। ১৪ তারিখের মধ্যে সকল শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন রকমরে অসন্তুষ্টি যেন সৃষ্টি করা না হয়। পবিত্র মাসে পবিত্রভাবে শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। বেতন পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আর কোন মালিকের যদি সমস্যা থাকে তাহলে বিএকএমইর সাথে আলোচনা করবেন। আমাদের জানাবেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা বিকেএমইএ সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র হোসিয়ারী শিল্পকে বৃহৎ আকারে রূপান্তর করতে পেরেছি। বর্তমানে নীট সেক্টরে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জেই প্রায় ২০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই ২০ লাখ শ্রমিকেরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসলেও এই নারায়ণগঞ্জেই পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তাই আমাদের নীট সেক্টরের কারনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের মাধ্যমে অন্যান্য সেক্টরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কিছুটা হলেও ভাল অবস্থানে রয়েছে। কারন এই ২০ লাখ শ্রমিক নারায়ণগঞ্জেই কেনাকাটা করে থাকে। তাই সকল গার্মেন্টস মালিকদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো। ঈদ উপলক্ষ্যে ছুটি ঘোষনার দিন ইতোমধ্যেই আমরা সবাইকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। কোন অবস্থাতেই ১৪জুনের পর কারখানা খোলা রাখা চলবে না। ১৪জুনের মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই যেন কোন রকমের অসন্তোষের সৃষ্টি না হয়। পবিত্র মাসে পবিত্র ভাবে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করে দিবেন। যদি আপনারা শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে না পারেন তাহলে আমাদেরকে বাধ্য হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি রোজা রাখবো, নামাজ পড়বো, আমি মুসলমান কিন্তু শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করবোনা এমন গুনাহর কাজ যেন আমরা না করি। আমরা বার বার বলেছি কারো যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে আমাদের বলবেন। সরকারের যে প্রণোদনা রয়েছে তা ইতোমধ্যেই ব্যাংক থেকে ছাড় করেছে। আপনারা খোঁজ নিবেন। কোন ব্যাপারে যদি আপনারা আটকে যান তাহলে বিকেএমইএ এর সাথে যোগাযোগ করবেন অথবা সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।
বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে দোয়ায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এর সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বিকেএমইএ এর প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহম্মেদ, দ্বিতীয় সহ সভাপতি ফজলে এহসান শামীম, সহ সভাপতি(অর্থ) হুমায়ন কবির খান শিল্পী, পরিচালক, জি. এম ফারুক, শামীম আহমেদ, মোস্তফা জামাল পাশা, মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, খন্দকার সাইফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here