শাদমানোর কৃতিত্বে গর্বিত নারায়ণগঞ্জবাসী

0
24
শাদমানোর কৃতিত্বে গর্বিত নারায়ণগঞ্জবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাদমান সাদাব নাম শুনতেই এখন গর্বিত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ। হবারই তো কথা, নারায়ণগঞ্জের ছেলে বলে কথা। তবে, শাদমান সাদাবের বিদ্যাপীঠ আইডিয়াল স্কুল এমন খবরে সব থেকে বেশি উচ্ছ্বসিত। অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে এখন এই একটি নাম ‘আইডল’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন অনেকেই।

শাদমান সাদাবের বয়স মাত্র ২২ বছর। এখনও অনার্সের রেজাল্ট দেয়নি। এরইমধ্যে তিনি হংকংভিত্তিক এক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), যা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতই খবর।

শাদমান সাদাব গত বছর ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে ফল লাভের আগেই ফিউচার সিটি সামিট (এফসিএস) লিমিটেড নামের আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সিইও পদে যোগদান করেন।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে ফিউচার সিটি সামিট (এফসিএস) লিমিটেড নামের হংকংভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থাটি। ভবিষ্যতের শহর গড়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে এফসিএস। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাঁদের কাজের পরিধি দিনে দিনে বিস্তৃত হয়েছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন শহরের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা, সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উদ্যোগী তরুণদের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করা, সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোর জন্য বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এফসিএস। এখন এই সবকিছুর নেতৃত্বের দায়িত্ব শাদমানের।

হংকংয়ের তরুণ আন্দ্রে কোক এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। উপদেষ্টা হিসেবে আছেন টি-হাব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা শ্রিনিভাস কল্লিপারা, হংকংয়ের অলাভজনক সংস্থা মেক আ ডিফারেন্সের আহ্বায়ক আদা য়িং কে য়োং, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব হংকং এসএআর গভর্নমেন্টের সদস্য রেজিনা ইপ লও সুক-য়িসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি।

শাদমানের বাবা হাসানুজ্জামান ভূঁইয়া ও মা সাবিরা হাসানের একমাত্র ছেলে। নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পেরোনোর পর শাদমান নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন ২০১১ সালে। প্রতিদিন সকালে ট্রেনে করে ঢাকা আসতেন। ওই একই ট্রেনে চড়ে তিনি ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ পর্যন্ত এভাবেই ক্লাস করেছেন। দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পর পরিবারসহ চলে আসেন ঢাকায়। ধীরে ধীরে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো তার। পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের পকেট খরচটা উঠে আসত। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকেই ব্রিটিশ কাউন্সিল, টেন মিনিট স্কুল ও ব্লাডম্যান নামে একটি অ্যাপভিত্তিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। কাজ শেখার বড় সুযোগটা এল ২০১৬ সালে। শাদমান সাদাব খবর পেলেন, হংকংয়ে ‘ফিউচার সিটি সামিট’ নামে একটি সম্মেলন হবে। আবেদন করলেন। অংশগ্রহণের সুযোগও হলো। তখনো জানতেন না, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সনদে একদিন তারই সই থাকবে!

‘২০১৮ সালের জুলাই মাসে অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিনই হংকং রওনা হলেন শাদমান। ফিউচার সিটি সামিটের সে বছরের আসর বসেছিল সেখানে। ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, তানজানিয়া, উগান্ডা, শ্রীলঙ্কা, জাপান, পাকিস্তানসহ নানা দেশে আমার তত দিনে অনেক বন্ধু হয়েছে। এই সম্মেলনের পরপরই শাদমানকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন আন্দ্রে কোক (তখন তার বয়স ছিল ২২, এখন ২৩)। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার পর বিপুল উদ্যমে কাজে নেমেছেন শাদমান। এফসিএসের কাজের পরিধি আরও বড় করেছেন। গত জানুয়ারি মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সফলভাবে আয়োজন করেছেন ‘ফিউচার সিটি সামিট ২০১৯’। ১৪টি দেশের ৩০টি শহর থেকে তরুণেরা অংশ নিয়েছিলেন এই সম্মেলনে।

এদিকে শাদমান সাদাবের সাথে সম্পর্ক নেই, তাকে অনেকে চেনেও না। অথচ তার এই সাফাল্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর চোখের কোনে যে জলের দ্যুতি জ্বলজ্বল করছে। শাদমান সাদাবের কথা বলতেই সবার মাঝে একটা গর্বিত ব্যাপার লক্ষণীয়। অনেকেই বলছেন, শাদমান সাদাব এই পজেটিভ নারায়ণগঞ্জের প্রতিচ্ছবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here