সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : গ্রামবাসীদের ক্ষোভ

0
14

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর নুনেরটেক এলাকায় আবারো শুরু হয়েছে বালু সন্ত্রাসীদের থাবা। ফলে নদী বেষ্টিত অনেক গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। গ্রামবাসীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর নুনেরটেক ও এর তীরবর্তী বালুমহালটি ইজারা দেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ওই এলাকার বালুমহাল ইজারা দিতে পারবে না প্রশাসন। তবে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু নাইম ইকবাল, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: আব্দুর রউফ, ইসমাইল মেম্বার, তার ছেলে রকি, বাছেদ মেম্বার, নুনেরটেক এলাকার জাকারিয়া, ওসমান মেম্বার, আবুল হাসেম ও নলচর এলাকায় চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ইউপি, স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি সানাউল্লাহ সহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এজন্য তারা সোনামুই মৌজায় মেঘনা নদীতে বসিয়েছে ৩০ থেকে ৩৫টি ড্রেজার।

মেঘনা নদীর সোনামুই এলাকার আমান অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে ১৫-১৬টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। বালু নেওয়ার জন্য সেখানে ২০-২৫টি বাল্ক্কহেড নোঙর করা ছিল। ওই এলাকায় একটি ট্রলারে লাঠিসোটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছে বালু উত্তোলনকারীদের লোকজন।

তবে এসব অস্বীকার করে আবু নাইম ইকবাল বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। একটি মহল তার বিরদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: আব্দুর রউফ বলেন, মেঘনা নদী থেকে এখন আর তিনি বালু উত্তোলন করেন না। প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় এ বালু উত্তোলন হয়ে আসছে। তবে তিনি ওই প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

চালিভাঙ্গা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ভাই যুবলীগ নেতা সানা উল্লাহ বলেন, ইজারা নিয়েই নলচর এলাকায় বালু উত্তোলন করছেন তিনি। নুনেরটেক এলাকায় কৃষকদের জমির মাটি কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

সোনারগাঁ উপজেলার ইউএনও শাহিনুর ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।