ডিবি পুলিশের গোমর ফাক : মাসোহারা আদায়ে সোর্স বিরোধ

0
338
ডিবি পুলিশের গোমর ফাক : মাসোহারা আদায়ে সোর্স বিরোধ

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের সরাসরি ছত্রছায়ায় সোর্সদের দিয়ে মাসোহারার বিনিময়ে জেলা ব্যাপী চলছে অপরাধ কর্ম। মুলত মাসোহারা বৃদ্ধি ও সোর্সদের আভ্যন্তরিন কোন্দলেই মাঝে মধ্যে ডিবি পুলিশ চালাচ্ছে লোক দেখানো অভিযান। বনিবনা না হলেই স্বাচ্ছন্দে চলমান অবৈধ ব্যবসা ব্যবসায়ীদের উপর নেমে আসে প্রশাসনিক খড়গ। থানা ভিত্তিক তালিকা করে মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, এ সকল সোর্সরা সাংবাদিকদের নামেও মাসোহারা আদায় করে ডিবি পুলিশের এক কর্তা ব্যক্তির কাছে তুলে দেন। পরে তা সাংবাদিকদের একাংশের মধ্যে বন্টন করেন ডিবির সেই কর্তাব্যক্তি। এ ধরনের অবৈধ ব্যবসায়ীদের নামের একটি তালিকা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট এর হাতে পৌচেছে। রয়েছে এক সোর্সের ভিডিও রেকডিংএ পুলিশের গোমর ফাক করা বেশ কিছু বক্তব্য। পাঠকদের জন্য ডিবি পুলিশের তালিকার একাংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো। তবে সোর্সের নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিডিও রেকডিংটি আপাতত সংরক্ষিত রাখা হলো নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেটের জিম্মায়।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সোর্স আনোয়ার হোসেনসহ সোর্সরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।  মূলত ডিবি পুলিশের সোর্স এই আনোয়ার নিজেকে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে চালাচ্ছে অপরাধ জগৎ। ইতোমধ্যে গুনধর সোর্স আনোয়ার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েয়ে। এমনকি ফতুল্লায় সোর্স শাওন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্তও ছিলো এই আনোয়ার।

তবে, টাকা আর পুলিশের সাথে সখ্যতায় শাওন হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলামের হাতে পাকড়াও হয়েছিলো সে। সেময়ে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাইকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল। রূপগঞ্জ থানার মামলা নং- ০৮/৪৪৭ তারিখ : ০৪/৬/১৮

নূরু মিয়া ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। প্রথমে ফতুল্লা থানা পরে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের গাড়ি চালক হিসেবে তিনি সর্বত্র পরিচিত হন। কনস্টেবল থাকা অবস্থায় থানা ও ডিবি কার্যালয়ের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সে পালন করে। পরবর্তীতে চাকরি থেকে অবসর নিলেও ক্যাশিয়ারের কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না।

দীর্ঘদিন তিনিই শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন অবৈধ কারবার থেকে ডিবি পুলিশের নামে মাসোয়ারা উত্তোলন করতেন। তার সব থেকে বেশি সখ্যতা গড়ে উছে ফতুল্লার চোরাই তের ব্যবসায়ীদের সাথে। মূলত পুলিশ ম্যানেজ করার দায়িত্বটাই ছিলো তার। বিনিময়ে পুলিশের জন্য নির্ধারিত মাসোয়ারাও সে তুলতেন। এরমধ্যে তোলা উঠাতে গিয়ে টাকাসহ গ্রেফতারও হয়।

তবে, মজার ব্যাপার হচ্ছে কনস্টেবল থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তীতে ‘ডিবি’র ক্যাশিয়ার’ এর দায়িত্ব পালন করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। একধিক গাড়ির মালিকও এই নূরু মিয়া। হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সি চালক মালিক সমিতির সভাপতি। এই স্ট্যান্ডেই তার রয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গাড়ি। রূপসী হাউজিংয়ে করেছেন বাড়ি। গ্রামে কিনেছে বিপুল পরিমাণের জমি।

মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বিশু ডিবি পুলিশের সোর্স তিনি। গত দুই তিন বছর যাবৎ এই সংস্থার ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও পালন করছিলেন তিনি। কথিত রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ফেনসিডিল ইয়াবাও সাপ্লাই দিয়ে থাকেন এই বিশু। সম্প্রতি চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ১৬ নম্বর আসামী তিনি।

সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের সোর্স কাম ক্যাশিয়ার মোফাজ্জল হোসেন এই পথে অঢেল ধন সম্পদের মালিক বনেছেন। এর মধ্যে বাবুরাইল এলাকায় ৫ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি এবং ফতুল্লার রুসেন হাউজিংয়ে ৭ শতাংশ জায়গাও করেছেন। তেল চোর থেকে শুরু করে সব অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে ঘুরে ঘুরে ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাসোয়ারা উত্তোলন করেন।

তবে, এই মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বিশুর সাথে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব ছিলো ডিবির সাবেক ক্যাশিয়ার নুরু মিয়ার। কেননা, বিশুর কারণে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নুরু মিয়ার হাতছাড়া হয়। ফলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছিলো। আর এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোফাজ্জল হোসেন বিশুর নামও যুক্ত করা হয়।

অপরদিকে আশরাফ ওরফে আসাদ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ডিবির সোর্স হিসেবে পরিচিত। সে মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে। মাদক ব্যবসার অভিযোগে সে একাধিকবার গ্রেফতার হয়।
অভিযোগ আছে, সোর্স আশরাফের যন্ত্রণা অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ডিবি পুলিশকে দিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতোপূর্বে অসংখ্য নীরিহ মানুষ তার দ্বারা হয়রানির শিকারও হয়। তাকে নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয় তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি কেউ।

এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের নানা অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের হাই কমান্ডের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। সর্বশেষ তেল ব্যবসায়ী ইকবাল চৌধুরীর ডিবি বিরুদ্ধে চাঁদা দাবী নিয়ে মামলা দায়েরের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন হাই কমান্ড। বিষয়টি আমলে নিয়ে তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন।