সঙ্গীত শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ আর নেই

0
40

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : জয় বাংলা বাংলার জয়, যে ছিলো দৃষ্টির সীমানায়, আমি তো আমার গল্প বলেছি তুমি কেন কাঁদলে–এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ খ্যাতি পেতে শুরু করেছিলেন ষাটের দশকে শিশু বয়সেই।

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়ক ও বরেণ্য সুরকার আনোয়ার পারভেজের বোন আর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে শিশু বয়সেই গানের জগতে জায়গা করে নেন শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ, যার ডাক নাম শাহীন।

যিনি গান শুরু করেছিলেন মায়ের অনুপ্রেরণায়।

তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ দেশের আরেক বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলছেন ষাটের দশকেই চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং গ্রামোফোন রেকর্ডেও সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন কিছুটা ব্যতিক্রমী কণ্ঠের শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী দশ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন। খেলাঘর থেকে শুরু করা এ শিল্পীর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। গজল সম্রাট মেহদী হাসানের শিষ্য হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু শাহনাজ রহমত উল্লাহ খুব অল্প বয়সে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কি করে ।

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ চলে গেলেন না ফেরার দেশে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার রাত ১১টায় বারধারা ডিওএসএইচের বাসায় তিনি মারা গেছেন।

বিষয়টি পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি জানান, শাহনাজ রহমত উল্লাহ বিএনপির দলীয় সঙ্গীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ এর রচয়িতা।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমত উল্লাহ ব্যবসায়ী, মেয়ে নাহিদ রহমত উল্লাহ থাকেন লন্ডনে আর ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমত উল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে এখন কানাডায় থাকেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার বাদ জোহর বারিধারার ৯ নম্বর রোডের পার্ক মসজিদে শাহনাজ রহমত উল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তির সময়ই গান থেকে বিদায় নেন তিনি। ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করেন। ২০১৭ সালের শেষ দিকে একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওমরাহ করে আসার পর দিন থেকেই আর গান করতে ইচ্ছা করেনি। তখন আমি নামাজ পড়া শুরু করেছিলাম। এখন নামাজ পড়েই সময় কাটছে।’

১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী ১০ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন। প্রায় সেই বয়সেই গান করেন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন আর বেতারে। খেলাঘর থেকে শুরু করা এ শিল্পীর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। গজল সম্রাট মেহেদি হাসানের শিষ্যা হয়েছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ছবির মাধ্যমে।

তার বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘কে যেন সোনার কাঠি’, ‘মানিক সে তো মানিক নয়’, ‘যদি চোখের দৃষ্টি’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি’, ‘আরও কিছু দাও না’, ‘একটি কুসুম তুলে নিয়েছি’।

১৯৯২ সালে একুশে পদক পান শাহনাজ রহমত উল্লাহ। ১৯৯০ সালে ছুটির ফাঁদে ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া ২০১৬ সালে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড আয়োজনে আজীবন সম্মাননা, ২০১৩ সালে সিটি ব্যাংক থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাকে।

উল্লেখ্য, মা আসিয়া হকের কাছেই শাহনাজের গানের হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তার ভাই প্রয়াত আনোয়ার পারভেজ ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। এ ছাড়া আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক।