নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের এ্যাকশন শুরু

0
792
নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের এ্যাকশন শুরু

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড়ে রূপায়ন টাউনে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিনের ক্যাডার বাহিনীর দুই দফা হামলায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ৪ জনকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার ১৩ আসামীর কেউ গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে ভুক্তভোগিসহ রূপায়ন টাউনবাসীর মধ্যে। তবে শনিবার দুপুরে স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান রূপায়ন টাউনে গিয়ে

ঘটনার শিকার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ, তার ছোট ভাই শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা আবদুস সালামসহ সেখানকার ফ্ল্যাট মালিকদের উপস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার জন্য দায়ি জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও তার অনুগত বহিরাগত কাউকে রূপায়ন টাউনে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেন। সাংসদ শামীম ওসমান ফ্ল্যাট বাসিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন থেকে রূপায়ন টাউনের ফ্ল্যাটের মালিকরাই রূপায়ন টাউনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। বহিরাগত কাউকে এখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। রূপায়ন টাউনের বাসিন্দারা চাইলে তিনি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং পাশে থাকবেন।

এদিকে ঘটনার পর রূপায়ন টাউনের উপদেষ্টার পদ থেকে রূপায়ন কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে ফ্ল্যাট মালিকরা জানিয়েছেন।

তবে রূপায়ন টাউনের ফ্ল্যাট মালিকদের একটি পক্ষ নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, সৃষ্ট ঘটনার মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন সাংসদ। তবে গতকাল সাংসদের সঙ্গে রূপায়ন টাউনে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, এ ধরণের কোন প্রস্তাব সাংসদ সেখানে রাখেননি। তিনি সেখানে ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সাংসদের এ ঘোষণাকে ফ্ল্যাট মালিকরা স্বাগত জানিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে। গতকাল বিকেলে মামলার বাদিরা ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য যোগাযোগ করলে ওসি জানিয়ে দেন বিষয়টি থানার নয় বরং আদালতের এখতিয়ার।

২৮ ভবনের ৭৮৪ ফ্ল্যাট মালিক জিম্মি ছিল নাজিম বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিল

এদিকে রূপায়ন টাউনের বিভিন্ন ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফতুল্লার ভুইগড়ে অবস্থিত রূপায়ন টাউন ফেস-১ কৃর্তপক্ষ ফ্ল্যাট মালিকদের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন। এরপর ২০১১ সালে রূপায়ন টাউনের উপদেষ্টা হিসেব নিযুক্ত হন নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। তিনি পুরো রূপায়ন টাউনে নিজের একচচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন। তার মালিকানাধীন মেসার্স নাজিম উদ্দিন এন্ড সন্স প্রতিষ্ঠানের নামে রূপায়ন টাউনের ভেতর সাপ্লাই কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে রূপায়ন টাউনের ভেতরে ১০ নাম্বার বিল্ডিংয়ের বেজমেন্টে তার প্রতিষ্ঠানের একটি অফিস নেন। সেই অফিসে বসে নাজিম উদ্দিনের নিয়োজিত ৮/১০জন যুবক দায়িত্ব পালন করে। অভিযোগ এই যুবকরা রূপায়ন টাউনের বাসিন্দানের নারীদের নানাভাবে উত্যক্ত করে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়। ফলে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করে না। ফ্ল্যাট মালিকরা আরো জানান, নাজিম উদ্দিনের ক্যাডার বাহিনী রূপায়নের ভেতর ফরেনারদের ফ্ল্যাটে মদ ও নারী সাপ্লাই দেয়। এবং কায়েস ও শামীম নামে দুইজন ভেতরে ইয়াবা বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, ফ্ল্যাটের মালিকরা এক বোতল মিনারেল পানির বোতলও বাইরে থেকে কিনতে পারে না। সবকিছু অতিরিক্ত দাম দিয়ে নাজিম বাহিনীর কাছ থেকে কিনতে বাধ্য হয়। ফ্ল্যাটের ইন্টারনেট বিল ১২০০ টাকা, ডিশ বিল ৩০০ টাকা। অথচ বাইরে ইন্টারনেট বিল (ওয়াইফাই) ৫০০ টাকা। পেপারও তার লোকজনের কাছ থেকে কিনতে হয়। প্রথম দিকে মানুম নামে এক যুবক পত্রিকা সরবরাহ করলেও তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। বাইরে থেকে কোন হকারকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয় না। রূপায়নের নিরাপত্তাকর্মীদের নাজিম বাহিনী নিজেদের ইচ্ছমত ব্যবহার করে। ফ্ল্যাটের সাধারণ মালিকদের গাড়ি ব্যাপকভাবে তল্লাশী হলেও নাজিম বাহিনীর ক্যাডাররা গাড়ি নিয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করলেও কোন প্রকার তল্লাশী করা হয় না। নাজিম উদ্দিন নতুনভাবে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাসের পর মাস ঘুরাতে তাকে। মোটকথা নাজিম উদ্দিন বাহিনী রূপায়ন টাউনের ৭৮৪টি ফ্ল্যাট মালিককে জিম্মি করে অপকর্মের রামরাজত্ব গড়ে তুলেছে।

নাজিম বাহিনীর ১৩ ক্যাডার গ্রেফতার হয়নি

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে নাজিম উদ্দিন বাহিনীর হামলায় ফ্ল্যাটের মালিক শিক্ষা মন্ত্রনায়লয়ে অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ ও তার ছোটভাই একই মন্ত্রনালয়ের অডিট ইন্সপেক্টর আব্দুল সালাম আজাদসহ ৪জন আহত হয়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত সচিবের ভাই অ্যাডভোকেট আশরাফ সিদ্দিকী ও আহত ফ্ল্যাট মালিক আবু সাঈদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে নাজিম উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ১৪জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলো-শরীফ, পুলক, বাবুল ড্রাইভার, হিমেল, সোহেল ভান্ডারী, সুমন, আকাশ, কাজল, শিপু, কাসেম, মনির ও শাওন। এছাড়া নাজিম বাহিনীর অন্য ক্যাডারা হলো-রাসেল সাউদ, রাজ্জাক মোল্লা, এরশাদ, শামীম ও সানী। মামলার ১৩ আসামী ও এই সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নাজিম উদ্দিন রূপায়ন টাউনের ভেতর নানা অপকর্ম করে আসছে।

ওই ঘটনার একটির বাদি অ্যাডভোকেট আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে সাংসদ রূপায়ন টাউনে এসেছিলেন। তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার জন্য দায়ি নাজিম উদ্দিন ও তার অনুগত কেউ এখন থেকে আর রূপায়ন টাউনে ঢুকতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।