পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তি থেকেই একের পর এক ধর্ষণ আদালতে মাদ্রাসা শিক্ষক

0
43
পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তি থেকেই একের পর এক ধর্ষণ আদালতে মাদ্রাসা শিক্ষক

কোর্ট প্রতিনিধি : পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তি থেকেই একের পর এক মাদ্রাসার ছাত্রীদের ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাউসার আলমের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে তার স্বীকারোক্তিতে এ কথা বলেন।

গত ৪ জুলাই ফতুল্লার মাহমুদনগর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোঃ আল আমিনকে এক শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১’র একটি টিম। তাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানানয়, গত এক বছরে তার লালসার শিকার হয়েছে ১২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। যারা তার মাদ্রাসার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাকে গ্রেফতারের পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি এবং ঘটনার শিকার শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর মামলাটি দায়ের করা হয়। র‌্যাবের দায়েরকৃত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। রিমান্ডের শেষ দিনে সে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিল।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, রিমান্ডের শেষ দিনে তাকে আদালতে প্রেরণ করলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ আল আমিন তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে, সে গত এক বছর যাবৎ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটে পর্ণো ভিডিও দেখা শুরু করে। মূলত এরপর থেকেই তার মনে কু-চিন্তার উদ্রেগ হয়। এরপরই সে তার কক্ষে টার্গেট করা ছাত্রীদের বিভিন্ন উছিলায় ডেকে নিতো। এরপর রুমে নিয়ে তাদের কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো, আবার কারও স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতো। এভাবে সে মাদ্রাসার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২ জন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া মাদ্রাসার অনেক ছাত্রীর ছবির সঙ্গে পর্ণো ভিডিও জোড়া দিয়ে তা দেখিয়ে অনেক ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতো।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে ওই স্কুলের ২০ ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সেই সংবাদ র‌্যাব-১১’র এক কর্মকর্তা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। সেই ভিডিও নিজের অ্যানরোয়েড ফোনে দেখছিলেন আল আমিনের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মা। ওই সময় পাশে থাকা ছাত্রী তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্কুলের ওই স্যারকে র‌্যাব ধরলে আমাদের হুজুরকে কেন ধরে না মা? তখন ওই ছাত্রীর মা ছাত্রীর কাছ থেকে ঘটনার বিশদ জেনে র‌্যাব-১১কে বিষয়টি অবহিত করে। র‌্যাব তদন্ত শেষে গত ৪ জুলাই সকালে মাদ্রাসা থেকে আল আমিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে র‌্যাবের কাছে মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করে।

ঘটনার শিকার ৩ মাদ্রাসা ছাত্রী ইতিমধ্যেই দন্ডবিধি ২২ ধারায় আদালতে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছে।#