সাধুবাদ পুলিশ সুপার নিপাত যাক অপসাংবাদিকতা

0
146
সাধুবাদ পুলিশ সুপার নিপাত যাক অপসাংবাদিকতা

আবু সাউদ মাসুদ : সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আগের মত আর লিখব না। অনেকদিন ধরে নিরবতা পালন করে চলছিলাম। কিন্তু আর পারলাম না। সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। নারায়ণগঞ্জে সেই স্তম্ভ ভেঙ্গে পড়ছে ধীরে ধীরে। প্রতারক, মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী, টাউট-বাটপার, হাসপাতালের দালাল, গাড়ির হেলপার, ভু’মিদস্যু, ডাকাত দলের সর্দার এবং চাঁদাবাজদের হাতিয়ারে পরিনত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকতা। রিপোর্টার ও ফটো সাংবাদিকদের দৌরাত্বে অতিষ্ট প্রশাসন, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখন একেবারে তলানিতে এসে পৌছেছে। সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রেফতার হচ্ছে রিপোর্টার ও ফটো সাংবাদিক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতারণা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও ডাকাতির মত ভয়ানক অপরাধের। যারাই গ্রেফতার হচ্ছে তারা কেউই মুলধারায় সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। নাম সর্বস্ব কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্ডধারী রিপোর্টার কিংবা ফটো সাংবাদিক। এখন প্রশ্ন উঠেছে নারায়ণগঞ্জে রিপোর্টার ও ফটো সাংবাদিকের সংখ্যা কত? তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কতটুকু?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিকদের মুলধারায় সংগঠনগুলোর কারোর কাছেই নেই তালিকা। তারাও জানেন না নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংবাদিকদের সংখ্যা কত। এমনকি খোদ প্রশাসনের কাছেও নেই এদের সর্বমোট সংখ্যার কোন তালিকা?

ফলে ভয়ানক এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আজ আমরা। সাধারণ মানুষ তথাকথিত সংবাদকর্মীদের অপতৎপরতায় অসহায় হয়ে পড়েছে। সকল কিছুতেই আমরাও এক সঙ্গে প্রতিবাদ করতে পারছি না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পক্ষ এবং বিপক্ষ তৈরী হয়ে যাচ্ছে সমান তালে। ফলে দেখতে দেখতে সাংবাদিক সমাজটা পচে যাচ্ছে! নষ্টদের হাতে সব কিছু চলে যাচ্ছে। লোভ লালসা সুবিধাবাদিতা ও স্বার্থপরতার নগ্ন কুৎসিত চেহারা উন্মোচিতই নয়, স্বীকৃতি লাভ করেছে। নারায়ণগঞ্জে সততা আদর্শ আত্মমর্যাদাবোধ মূল্যবোধ নির্বাসিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী নির্দয় সাংবাদিক সমাজের বিকাশ ঘটছে।

এ পেশায় চাটার দলের চলছে মহোৎসব। লাভ ও লোভের হিসেবে এ পেশার চারদিকে আজ কেবল বিশ্বাসঘাতক প্রতারক মানসিকভাবে দারিদ্র ও তাদের সস্তা দালালদের দৌড়ঝাপ! বিকৃত আর্থিক সুবিধার কাছে ছুটছে সাংবাদিক নামধারীরা গভীর আগ্রহে, লাভের আশায়। সবকিছু ধুলোয় যাক, যেখানে সেখানে গড়াগড়ি খাও স্বার্থের আশায়। আদর্শিক সাংবাদিকতা নারায়ণগঞ্জে তো এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না। ফলে ব্লাক হোলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষেরা দেখছে ভঙ্গুর সাংবাদিকতা। তারা অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কোন কথা বলছে না ঠিকই কিন্তু নিরবে ঘৃনা প্রকাশ থেকে বিরত থাকছেন না। তাদের এ ঘৃনা সাংবাদিকতার মত পেশার জন্য অচিরেই অভিশাপ হিসেবে ধ্বংস ডেকে আনবে। অতি দ্রুত এর লাগাম টানা না গেলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তা বুঝতে নিজেকে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আশার বিষয় জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বিপিপিএম, পিপিএম (বার) ইতোমধ্যে এ সকল অপসাংাবিকদের লাগাম টানতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে সোনারগাঁ, ফতুল্লায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নামধারীদের গ্রেফতার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সাধুবাদ জানাই পুলিশ প্রশাসনকে। একই সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহনের বিনীত অনুরোধ করছি। এদের নির্মূলে আমরাও আছি এবং থাকবো প্রশাসনের পাশে। এক্ষেত্রে মোটা চিকন দেখার প্রয়োজন নেই। সাংবাদিকতা পেশা ব্যবহার করে আমিও যদি অপকর্মে লিপ্ত হই তাহলে আমাকেও আইনের আওতায় নিয়ে যাবার আশ^াস প্রদান করছি। এভাবে একটি জেলা চলতে পারে না।

সাধুবাদ পুলিশ সুপার নিপাত যাক অপসাংবাদিকতা

এসপি হারুন অর রশীদ এ জেলায় যোগদানের পর অনিয়মের নিয়ম ভাঙ্গতে শত প্রতিকুলতার মধ্যেও অবদান রেখে চলেছেন। নিন্দুকেরা যে যাই বলুক না কেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তিনি সর্বাধিক প্রধান্য দিচ্ছেন। ফলে শহরবাসীর মধ্যে ক্রমশ তার প্রতি আস্থা বাড়ছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নের্তৃত্ব দূর্বলতার কারণে কোনভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না এ পেশাকে ব্যবহারকারী দূর্বৃত্ত্বদের পদচারনা থেকে। মুলধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পদধারীদের নিলিপ্ততা যে অনেকখানী দায়ী তারা নিজেরাও তা বুঝেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। সরকারী বিভিন্ন প্রেস ব্রিফিংএ তারা যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু সেখানে মুল ধারার সাংবাদিকদের সংখ্যা থাকছে হাতেগোনা কয়েকজন। তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তারা পদধারী হওয়াতে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ থাকে, এতেই ঐ সকল সাংবাদিক নেতারা খুশিতে গদগদ। ফলে মুলধারায় অনেক সাংবাদিক এখন আর এসব প্রেস ব্রিফিং এ অংশ নেন না। তারা মুলত সম্মান রক্ষার্থেই প্রেস ব্রিফিং থেকে নিজেদের বিরত রাখছেন। ফলে মুলধারার সাংবাদিকদের অনেকের সঙ্গেই প্রশাসন থাকছে সমন্বয়হীনতায়। পরিশেষে নারায়ণগঞ্জে সুস্থধারার সাংবাদিকতার পথ উম্মোচন ও অপসাংবাদিকতার রাজত্ব ধংস করার মিশনে পুলিশ সুপার এগিয়ে যান, প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা আপনার পাশে আছে, থাকবে, ইনশাল্লাহ।