ডিস বাবুর সহযোগী বশির ও জামানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

0
260
ডিস বাবুর সহযোগী বশির ও জামানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বিধবা নারীকে বিয়ে ও ওরসজাত সন্তানকে গ্রহণ করার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে বন্দরের ২ ডিশ ব্যাবসায়ী বশিরউদ্দিন ওরফে ডিশ বশির ও জামান ওরফে ডিশ জামানের বিরুদ্ধে। এরা দুজনেই ডিস গদফাদার নাসিক ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরুফে ডিস বাবুর বিশ্বস্ত সহযোগী।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারী।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জুয়েল রানা মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী এবং বিবাদী একই এলাকায় বসবাস করে। দীর্ঘদিন যাবত বশির উদ্দিন ওরফে ডিশ বশিরের বাসায় কাপড় ধোয়া মোছা সহ গৃহাস্থলির কাজ করে দিত। ২০১১ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে রাতে বাসায় ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ওই নারীকে ধর্ষণ করে বশির।

এ ঘটনায়, প্রকাশ না করার শর্তে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধামাচাপা দিয়ে রাখে বশির। বাদী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বেশ কয়েকবার সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করলেও বাদীর অমতে ব্যর্থ হয় লম্পট বশির। এরপর বাদী পুত্র সন্তান প্রসব করলে তার বাবা হিসেবে স্বীকার করে নেয়ার কথা বললে বশির অস্বীকার করে। এর পরবর্তীকালে বাচ্চা স্বীকার ও স্ত্রীর মর্যাদা প্রদানের প্রলোভনে ৭ বছর ধরে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে বশির।

এরপর, ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মীমাংসার কথা বলে বাদীকে বাসায় ডাকে বশির। এসময় কবে বিয়ে করবে জানতে চাইলে বশির আশ্বাস দিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে বের হয়ে যায় এবং সাথে সাথেই ২ নং আসামী জামান ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এই ঘটনা প্রকাশ করলে ভিক্টিম ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয় জামান।

পরবর্তীতে, বিধবা দিন দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং মানুষের কটূক্তি শুনে থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা গ্রহণে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভিক্টিম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনালে মামলা দায়ের করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুধু ওই নারীকেই নয় এর আগে বশিরের মেয়ে সাবরিনার বাসার কাজের মেয়েকেও ধর্ষণ করেছিল বশির। এরপর ওই নারীরও গর্ভে সন্তান আসে। পরবর্তীতে সন্তান নষ্ট করার বাহানায় নারীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেন বশির গংরা। তার সকল কাজে শেল্টার দিত কাউন্সিলর বাবু।

একইসাথে, তার মেয়ে সাবরিনা বশিরও তার বাবার কু-কর্ম, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেল্টার দিয়ে আসছে। ডিস বাবুর গ্রেপ্তারের সাথে বশির তার মেয়ে সাবরিনা ও ডিস জামানকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধও জানান জেলাবাসী।