বন্দরের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ

0
24
বন্দরের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : বন্দরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকের গডফাদার নুরুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে মূসাপুর ও ধামগড় ইউনিয়নের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এলাকাবাসীর পক্ষে কামতাল সমাজ কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাশার বাদী হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি), জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ, পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ ও র‌্যাব-১১’র অধিনায়কের দপ্তরে অভিযোগটি জমা দিয়েছে। অভিযুক্ত নুরুজ্জামান মোল্লা বন্দরের কামতাল এলাকার মো: আলীর ছেলে।

অভিযোগে সুপারিশ করেছেন মূসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ, মূসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: আমিনুল হক ও মূসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন।

অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আমরা বন্দর থানার মূসাপুর ও ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ভুক্তভোগী শান্তিপ্রিয় জনগন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উন্নয়ণে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসিতেছি। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ নুরুজ্জামান মোল্লা গংদের বিভিন্ন প্রকার বেআইনী কর্মকান্ডের কারণে এলাকার সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ। সে এলাকার চিহ্নিত খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা তৈরী করে নানা প্রকার অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। বন্দর উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান মোল্লা মাদক ব্যবসায়ী ও কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে অপরাধীদের অপরাধ করার সুযোগ করে দিয়ে বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আবার কখনো মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে আবার কখনো তাদেরকে জিম্মি করে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে প্রকৃত অপরাধ নির্মূল না করে গ্রেফতার বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। মাদক পরিবহনে সে একটি চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে (ঢাকা মেট্রো-ল-২১-৬০৬৭), বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীর সময় গাড়ী ভাংচুর, অগ্নি সংযোগসহ নানা নাশকতায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। তার এ সকল অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের উপর নেমে আসে নানা নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানী। নুরুজ্জামান মোল্লা অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির লোক। তার অন্যায় কাজের বিপক্ষে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। এ ধরনের অনেক নজির সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ তথা রাষ্ট্র পর্যন্ত সে একজন চিহ্নিত অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে অবৈধ ক্ষমতার দাপটে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য মদদে এসকল কর্মকান্ড করে চলছে। তার বিরুদ্ধে শুধু বন্দর থানায় বিভিন্ন সময়ে নানা গুরুতর অপরাধে প্রায় ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে।

মামলা গুলো হচ্ছে-(১) বন্দর থানার মামলা নং-১৪, তাং-১২/০৩/১৫ইং, (২) বন্দর থানার মামলা নং-৩৭, তাং-২৬/০৩/০৭ইং, (৩) বন্দর থানার মামলা নং-০৮, ০৬/০৩/০৮ইং, (৪) বন্দর থানার মামলা নং-৩৩, তাং-২৯/০৬/০৮ইং, (৫) বন্দর থানার মামলা নং-২৯, তাং-১০/১০/১৮ইং, (৬) বন্দর থানার মামলা নং-১৪, তাং-০৫/১১/১৮ইং, (৭) জেলা জজ কোর্ট মামলা নং-২৭৮/১৯, ২৬/০৬/১৯ইং।

অভিযোগে এলাকাবাসী আরো জানায়, তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেয়ার বহু তথ্য প্রমানের ফোনালাপ রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। যাহা প্রয়োজনে তদন্তকালীন সময়ে প্রকাশ করা হবে। নুরুজ্জামান মোল্লা একজন হলুদ সাংবাদিক। সে নিজেকে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকের একজন বন্দর থানা প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করে। উল্লেখিত বিষয়াদি গভীর তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতার ভিত্তিতে দেশ ও জনগনের জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।