লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মহাতীর্থ অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু

0
62
লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মহাতীর্থ অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু

নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাতীর্থ অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। পূণ্য স্নান উপলক্ষে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক পূণার্থীর সমাগম ঘটেছে লাঙ্গলবন্দ এলাকায়। চৈত্রের শুল্কাতিথি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টা ৫মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে স্নানের লগ্ন শুরু হয়। দুই দিনব্যপী এ স্নান উৎসব শেষ হবে আজ শনিবার সকাল ৮ টা ৫৮ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। আগত পূণ্যার্থীরা জগতের যাবতীয় সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণ থেকে মুক্তির বাসনায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করেন। দেশি ও বিদেশি আগত ভক্তদের স্নান উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বঘে্ন পালন করার লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় দুইদিন ব্যাপি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে গিয়ে দেখা গেছে, পূণ্যার্থীরা দলে দলে স্নান করছেন। উৎসবে আসা পূণ্যার্থীরা আড্ডা শ্যামপুর ঘাট, ললিত সাধুর ঘাট, অন্নপূর্ণ ঘাট, রাজ ঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মাকুঁড়ি সাধুর ঘাট, মহাত্মা গান্ধী ঘাট, ভদ্রেশ্বরী ঘাট, জয়কালি ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, প্রেম তলা ঘাট, চর শ্রীরাম ঘাট, সাবদি ঘাট, বাসনকালী, শিবমন্দির ঘাট, মনোজকান্তি বড়াল ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট ও জগৎবন্ধু ঘাটে স্নান করেন।

সনাতন ধর্মাবম্বীদের বিশ্বাস ব্রহ্মপুত্রের জলে ¯œান করে পাপমুক্ত হয়েছিল পরশুরাম মুনি। হিন্দু ধর্মলবম্বী লোকজন মনে করেন, মহা ভারতের বর্ণনা মতে, পরশুরাম মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের যে স্থানের জলে স্নান করেছিলেন তা লাঙ্গলবন্দে অবস্থিত। সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস চৈত্রের শুক্লা তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ থেকে মুক্তি মেলে। এ স্নানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন হয়। এ বিশ্বাস নিয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে এ স্নানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিবৎসর ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পূণ্যার্থীদের আগমন ঘটে। পাপমোচনের এ উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এসে এখানে সমাবেত হয়েছেন। পরশুরামের পাপ থেকে মুক্তি হওয়ার কথা স্মরণ করে শত শত বছর ধরে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী বলেন, স্নান নির্বিঘœ করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। আগত পূণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে স্নান করছেন। স্নান ঘাটলাগুলোতে কাপড় পরিবর্তণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক বাতি, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পূণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের উন্নত সেবা প্রদানে ১০টি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রাখা হয়েছে।

এদিকে স্নানোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ পুরো লাঙ্গলবন্দ এলাকা সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরী করেছে। স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে ১ হাজার ৬শ’ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। #