খানপুর কুমদিনী র‌্যালী বাগানে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ৪

0
20

শহর প্রতিনিধি : সুয়ারেজ ড্রেনে গ্যাস বিষ্ফোরণে শিশুসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা । বৃহস্পতিবার সকালে নগরের খানপুর কুমদিনী র‌্যালী বাগান এলাকায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এতে আহতরা হলেন, হযরত আলীর ছেলে রাব্বী (১২), খোকন মিয়ার মেয়ে মরিয়ম (১১), বাবু মিয়ার স্ত্রী লাকি ( ৪০) এবং শাহ আলমের স্ত্রী রিনা (৪০)।

বিষ্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয় এবং আগুন জ¦লে উঠে। পরে মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রেনের গ্যাসের আগুন নেভায়। আহতদের তাৎক্ষণিক নাারয়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে হঠাৎ কুমুদিনী বাগান এলাকার ড্রেনে বিকট শব্দে বিষ্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের একেবারে কাছে থাকা রাব্বীসহ আরো তিনজন আহত হন। রাব্বীর ডান পা আগুনে পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা হয়তো তিতাসের গ্যাস পাইপ লিকেজ হয়ে এঘটনা ঘটতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, ড্রেনে গ্যাসের বিষ্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আমরা আসার পরও ড্রেন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছি।

তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ সহকারি প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন যখন ড্রেন নির্মাণ করে তখন তারা কোন ধরণের ছিদ্র রাখে নাই, যাতে বাতাস বের হতে পারে।

যার ফলে বিভিন্ন গ্যাস জমে থাকার ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং আগুন ধরে গেছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমার লোক দিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেছি কোন ধরণের গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় নাই। এবং গ্যাসের পাইপ পুড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জেলার উপসহকারী পরিচালক মো.আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, সুয়ারেজ ড্রেনে বদ্ধ থাকায় গ্যাস জমে এই বিষ্ফোরণের র্ঘটনা ঘটেছে। কোন বাতাস বের হওয়ার জায়গা না থাকায় বদ্ধ সুয়ারেজ ড্রেনে হাইড্রোজেন সালফাইট ও সালফার ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়।

এখানে অ্যামোনিয়াও সৃষ্টি হতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের প্রবল ঘাটতি দেখ দেয়। ফলে এরকম বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি সচরাচর সেপটিক ট্যাংকে থাকে। কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে ঢুকলে এতে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ারও সম্ভবনা থাকে। আগেভাগে এসব গ্যাসের উপস্থিতি টের পাওয়া মুশকিল।#