গৃহবধূ বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের : স্বামী ও শ্বশুর গ্রেফতার

0
115
গৃহবধূ বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের : স্বামী ও শ্বশুর গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : শহরের টানবাজারে এক গৃহবধূ বৃষ্টি চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। নিহতের স্বামীর পরিবার এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও তার বাবার বাড়ির অভিযোগ এটি হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মিঠুন চৌধুরী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী স্বামী সুদীপ রায় ও শ্বশুর সুভাষ চন্দ্র রায়, শাশুড়ি চিত্রা রানী রায় এবং ননদ ডেইজী সাহাকে আসামী করা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ সুদীপ রায় ও সুভাষ চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করেছে।
নিহত বৃষ্টি চৌধুরী কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার শ্যামল চৌধুরীর মেয়ে। ২ বছর পূর্বে টানবাজার সাহাপাড়া এলাকার সুভাষ চন্দ্র রায়ের ছেলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্মকর্তা সুদীপ রায়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহত বৃষ্টির স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, নিহতের ভাই শুক্রবার রাতে চারজনকে আসামী করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের শহরের টানবাজার সাহা পাড়া এলাকার গিয়াসউদ্দিনের ৭ম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃষ্টি চৌধুরীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসময় জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নুরুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. নুরুজ্জামান জানান, মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ গলায় দাগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর মূল কারণ বলা যাবে।
এদিকে নিহত বৃষ্টি চৌধুরীর পরিবার দাবি করেছেন, যৌতুক না দেয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তবে, বৃষ্টির স্বামীসহ অন্যান্যদের দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে সে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের বড় ভাই মিঠুন চৌধুরী বৃষ্টিকে বিয়ে দেওয়ার সময় ১৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু বিয়ের পরে আরও যৌতুকের জন্য বৃষ্টিকে প্রায় মারধর করতো তার স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এসব নিয়ে কয়েকবার বিচার সালিশ হয়েছিল। শুক্রবার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে নির্যাতন করে বৃষ্টিকে হত্যা করে।
তবে, বৃষ্টির স্বামী সুদীপ রায় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে বৃষ্টি। বিকেলে ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় তালা ভেঙে ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বৃষ্টিকে পাওয়া যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।