ডিশ বাবু ও জয়নালের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

0
40
ডিশ বাবু ও জয়নালের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

শহর প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও জাতীয় পার্টির কথিত নেতা আল জয়নাল আবেদীনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করেছেন সদর থানা পুলিশ। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগণ এ দুইজনের কাছে নিরাপদ না। এ অবস্থায় অস্ত্র থাকলে সেটা আরো ভীতিকর হয়ে উঠবে।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির। সে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদকের শেল্টারদাতা। তার কাছে অস্ত্র লাইন্সেস থাকায় জনগণের নিরাপদ না। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে তার লাইন্সেস বাতিলে জন্য আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। একইভাবে জয়নাল আবেদীনের অস্ত্র বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
আবদুল করিম বাবু গত ২৩ মে জামিনে মুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সবগুলো মামলাতে তিনি জামিন পাওয়াতে মুক্তি পান। একটি চাঁদাবাজী মামলায় বাবুকে গ্রেপ্তারের পর একের পর এ মামলা রুজু হতে থাকে। একই পরিস্থিতি ছিল আল জয়নালের বিরুদ্ধেও। তবে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন জয়নাল।
২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বিতর্কিত জাপা নেতা আল জয়নালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল আল জয়নাল সহ ৩ আসামীর বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে এস এম মালেহ রোডের বাসিন্দা আহমেদ জুবায়ের বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। একই সাথে মামলায় ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল কালীরবাজারে ২২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয় আল জয়নালকে। কালীরবাজার স্বর্ণ ব্যাবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি রহমতউল্ল¬াহ ফারুক বাদী হয়ে সদর থানায় ওই মামলার দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে আল্ল¬ামা ইকবাল রোডস্থ আহমেদ জুবায়েরের নির্মানাধীন বাড়িতে আল জয়নাল সহ আসামীরা প্রবেশ করে। এসময় জুবায়েরের নিকট ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে মারধর করে এবং নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট করে। এছাড়া বাদীর নিকট থেকে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং আশেপাশের থেকে ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এবং যাওয়ার সময় উলে¬খিত টাকা প্রদানের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়।
চাঁদাবাজী মামলায় নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দী সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবুর ২৯ এপ্রিল একটি মামলা হয়। বাবুর বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ এনে ২৯ এপ্রিল রাতে তাঁরই এলাকার বাসিন্দা বারেক মিয়া বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু দীর্ঘ দিন বারেক মিয়ার জায়গা অবৈধ ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে দখল করে রেখেছিলেন।
১৮ এপ্রিল বিকেল ৩টায় শহরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়ে। বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দায় হাসান নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই মামলাটি দায়ের করা হয়।
এদিকে বাবুর বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে ক্লাব তৈরির অভিযোগ উঠেছে বাবুর বিরুদ্ধে। হাজী নাজমুল হাসান বারেক উল্লেখ করেন তার পরিচালনাধীন ৪৮ বছরের আজিজিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ২টি রুম সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা তালা ভেঙ্গে ২ লাখ টাকা মালামাল লুটপাট করে ক্লাব হিসেবে স্থাপন করে।
এরই মধ্যে আবদুল করিম বাবুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি চাঁদাবাজী মামলা করা হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ফতুল্লা উত্তর মাসদাইর এলাকার মো: নজরুল ইসলামের ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম কুসুম ও পশ্চিম দেওভোগ এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মোক্তার হোসেন পৃথক অভিযোগে এই দুইটি মামলা দায়ের করেন।