বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
Home বিবিধ আলোচিত খবর হাটে গরু আছে ক্রেতা নেই হতাশায় বেপারীরা

হাটে গরু আছে ক্রেতা নেই হতাশায় বেপারীরা

0
7
হাটে গরু আছে ক্রেতা নেই হতাশায় বেপারীরা

স্টাফ রিপোর্টার : জেলার হাটগুলোতে গরু আছে অনেক কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই। অনেকটাই বেকার বসে রয়েছেন বেপারীরা। হঠাত করে শেষ দিনে দুপুরের পর থেকে একেবারেই কমে গেছে ক্রেতার সংখ্যা। ফলে চরমভাবে হতাশ গরুর বেপারীরা। শেষ পর্যন্ত গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে কিনা এ আশঙ্কা তাদের।

এবার দাম ভালো হবে। হাটও জমবে বেশ। সে প্রত্যাশা নিয়েই সিরাজগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে এসেছিলেন রজ্জব বেপারী। কিন্তু গত কয়েকদিন গরুর দর যেমন তেমন থাকলেও হাটের শেষদিন রোববার ক্রেতা স্বল্পতায় গরুর দামই যেন উঠছে না। এমন পরিস্থিতিতে কাঁদো কাঁদো অবস্থা গরুর বেপারীদের। এখন তারা কোনো রকম বিক্রি করতে পারলেই বাঁচেন।

রোববার (১১ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। গরু বেপারীদের কপালে চিন্তার বলিরেখা আর ক্রেতা যে কজনই আসছেন যাচ্ছেন তাদের মুখ বেশ উৎফুল্ল।

সদর উপজেলার রূাপায়ন টাউনের হাট ঘুরে দেখা গেছে গত দুই দিনের তুলনায় এদিন সকাল থেকে ক্রেতা কম। হাট ভর্তি গরু। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। আর শেষ মুহূর্তেন ঝুঁকি না নিয়ে অল্প লাভেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন বেপারিরা।

পাবনার সাঁথিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারি আকমল জানান, গরুর দাম নেই বললেই চলে। গতকাল যে গরুর দাম এক লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছে; আজকে ওই গরু ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সাব্বির আহমেদ নামের এক ক্রেতা জানান, হাটে গরুর অভাব নেই। তারপরও বেশি লাভ করার জন্য বেপারিরা গরু বিক্রি করছেন না। একটা গরুর সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন মণ মাংস হবে। অথচ দাম চাচ্ছে ৯০ হাজার টাকা! বাস্তবে গরুটার দাম সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হবে। ৭০ হাজার টাকা বললাম তারপরও বিক্রি করছে না।

আলীগঞ্জ হাটে গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজগঞ্জের জামাল বেপারী। তিনি ১৩ টি গরু এনেছিলেন। বর্তমানে রয়েছে ৫টি গরু। জামাল বলেন, গরু গ্রামে কেনা পড়ছেছে ৮০ হাজার টাকা। এরপর এক সপ্তাহ খাওয়ানো গাড়ি ভাড়া করে নারায়ণগঞ্জে আনাসহ প্রতিটা গরুর পেছনে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। এখন এই গরুর দাম বলছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। প্রতিটি গরুতেই ১০-১২ হাজার টাকা লোকসান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এ গরু বিক্রেতা বলেন, লস দিয়ে গরু বিক্রি করবো না; প্রয়োজন হলে আবার গ্রামে ফেরত নিয়ে যাবো।

এদিকে পশু কিনতে আসা লতিফ সরদার নামের এক ক্রেতা জানান, গতকাল রাতে গরু কিনতে এসেছি। রাত্রে বেপারিরা গরু বিক্রি করেন, অযথা বাড়তি দাম চেয়েছেন। রাতের তুলনায় সকালে গরুর দাম কিছুটা কমেছে। সকালে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।

এদিকে হাটগুলোতে বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি। দুই থেকে তিন মণ ওজনের গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব গরুর ক্রেতা বেশি। বড় আকারের গরু তুলনামূলক কম বিক্রি হচ্ছে।

google.com, pub-7772264603745293, DIRECT, f08c47fec0942fa0