এবার কবির-ফারুকের বিরুদ্ধে মজিবুর ও মতির বিবৃতি জালিয়াতির অভিযোগ

0
579
এবার কবির-ফারুকের বিরুদ্ধে মজিবুর ও মতির বিবৃতি জালিয়াতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : সিদ্ধিরগঞ্জের গ্রেফতারকৃত পরিবহন চাঁদাবাজ সামাদ বেপারীর দুই সহযোগি লোহা চোর মোটা কবির ও মাদক ব্যবসায়ি টাইগার ফারুককে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। নানা অপকর্মের হোতা এই দুই সন্ত্রাসী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান মতির বিবৃতি জালিয়াতি করেছে। গত দুইদিন ধরে তাদের অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু দুই বাটপার বাঁচার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও থানা যুবলীগের সভাপতির মিথ্যা বিবৃতি নিজেদের পক্ষে প্রচার করে। নিজেরা নিজেদের পক্ষে ভালোভালো কথা লিখে তা দুই নেতার বলে চালিয়ে দেয়। অথচ দুই শীর্ষ নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিবৃতি দিলে তো দলীয় প্যাডেই দিতাম।

সোমবার বিকালে থানা সভাপতি মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন বিবৃতি দেই নাই। আমাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছে আমি কবির ও ফারুককে চিনি কি না। আমি বলেছি কবিরকে চিনি সে ইপিজেডে ব্যবসা করে। আর সে চাঁদাবাজি করে কি না তা আমার জানা নেই। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন। আর ফারুক ইপিজেডে গাড়ি-টারির ব্যবসা করে জানি। তার ভাই জুয়েল বিএনপি করে। তাকে আমি কয়েকবার পুলিশে দিয়েছি।

একই ভাবে মতিউর রহমান মতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন আমি কোন বিবৃতি দেই নাই। তিনি বলেন, ফারুক আমাদের দলের মিছিল মিটিংয়ে থাকে। দলে তার কোন পদ নাই। তবে ইপিজেডে ব্যবসা করে। যদি কোন চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে প্রশাসন আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিবে। এতে আমার কিছু বলার নাই। আর কবিরকে আমি চিনি না। তবে জানি সে ইপিজেডে ব্যবসা করে। দুই নেতার বক্তব্যের ভয়েস রেকোডিং সংরক্ষিত আছে।

থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিকজন জানান, কবির ও ফারুক নিজেদের অপকর্ম ঠিক রাখতে নেতা (মজিবুর রহমান) সাথে মিশে থাকার চেষ্টা করে। বিভিন্ন জায়গায় নেতার নাম বিক্রি করে। কবির সকাল বিকাল বিভিন্ন নেতাকে বিক্রি করে। কখনো আদমজীর মতির নাম বিক্রি করে । আবার কখনো মজিবুর রহমানের নাম বিক্রি করে। আবার কখনো স্থানীয় কাউন্সিলর ফারুকের নাম বিক্রি করে। প্রকৃতভাবে এই তিনজনের কেউ-ই কবিরকে ভালো জানে না। বাটপার হিসেবে চিনে। কবির একটা চিহ্নিত ও মার্কা মারা মিথ্যাবাদী। বাবা মুক্তিযোদ্ধা এটাই ওর চালান। তবে ওর বাবা কোনদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। কোথাও তার কোন পদ পদবী ছিল বলে আমরা শুনি নাই। কবিরের ছোট ভাই মহিন যুবদলের রাজনীতির জড়িত। কবির নিজেও আদমজী চালু থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। বিএনপির গিয়াস উদ্দিনের অন্যতম সহযোগি আকরামের সাথে থেকে বিএনপির আমলে বন্ধ আদমজীর মূলবান মালামাল টেন্ডারের নামে লুটপাট করেছে। তার পরিবারের কেউ কোন দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। অথচ কবির এখন যুবলীগের পরিচয় দেয়। এটা দু:খজনক।

অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ি ফারুকের বাবা সাইদ আদমজী জুট মিল চাল অবস্থায় বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আবুল খায়ের খাজার নেতৃত্বাধীন কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। ফারুকের ছোট ভাই জুয়েল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের নেতা, আরেক ছোট ভাই জসিম সেও বিএনপি করে। আর ফারুক তার দুই ভাইকে নিরাপদে রাখার জন্য যুবলীগের রাজনীতির সাথে মিশে আছে। সেও অনেক নেতা ও সাংবাদিকদের নাম বিক্রি করে চলে।