এবার জেলখানায় কউন্সিলর সাদরিল হার্ট এ্যটাকের গুজব!

0
41
এবার জেলখানায় কউন্সিলর সাদরিল হার্ট এ্যটাকের গুজব!

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল হার্ট এ্যটাক করেছে বলে গতকাল রাত সাড়ে আটটায় গুজব ছড়ানো হয়েছিলো। সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মতিন প্রধান কাউন্সিলর সাদরিলের বাসায় গিয়ে তার পিতা আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং তার স্ত্রীকে বলেন সাদরিল হার্ট এ্যটাক করেছে।

তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। এই ঘটনা শোনার পর সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ফোন করে সাংবাদিকদের জানান। এরপর এ প্রতিনিধি জেলা সুপারকে টেলিফোন করলে জেল সুপার বলেন এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাদরিল সুস্থ্য আছেন। এটা গুজব।

এরপর মতিন প্রধানের মোবাইল নম্বর (০১৭১১৬৩৩৭৯৬) এ কল করা হলে তিনি বলেন তাকে নারায়ণগঞ্জের জেলার জানিয়েছেন। তখন মতিন প্রধানের কাছে জেলারের মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি একটি নাম্বার (০১৭৯৩৪৮৬৩৩৮) দিয়ে বলেন এটা জেলারের নাম্বার। পরে এই নাম্বারে ফোন করা হলে জানানো হয় এটা কোনো জেলারের নাম্বার নয়। এটা রং নাম্বার। মূলত এভাবেই গতকাল সাদরিল হার্ট এ্যটাক করেছে বলে গুজব ছড়ানো হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এই শহরের বড় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় নারায়ণগঞ্জের জনগনের মাঝে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের একটি ইতিবাঁচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই শহরে তিনি এমন সব অপরাধীদের গ্রেফতার করেছেন বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছেন সেটা নজিরবিহীন। আওয়ামী লীগ পর পর তিনবার ক্ষমতায় আসার পর এবারই কোনো পুলিশ সুপার মেরুদন্ড সোজা করে দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

তাই তার কাছে সাধারন মানুষের প্রত্যশাও অনেক বেড়ে গেছে। তাই মানুষ আশা করেন পুলিশ সুপার তার এই ইতিবাঁচক ভাবমূর্তি বজায় রাখবেন। কোনো ট্রাপে পা দেবেন না। এই পুলিশ সুপার থাকতে কোনো নিরপরাধী ব্যাক্তি কোনোর রকম হয়রানীর শিকার হবে না এটা তিনি নিশ্চিৎ করবেন। কিন্তু গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বহিরাগত একজন সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি এসে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখালে যে অনাকাংখিত ঘটনার সূত্রপাত হলে খবর পেয়ে কাউন্সিলর সাদরিল এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অথচ সেই সাদরিলকেই পুলিশ ধরে নিয়ে ব্যাপক হয়রানী করার পর মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায় এবং তার দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। ফলে একজন নিরপারাধী কাউন্সিলরকে মিথ্যা অভিযোগর ভিত্তিতে গ্রেফতার করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে মনে করেন তার এই গ্রেফতারের ঘটনাই প্রমান করে কেবল অরাধীরা নয় নিরপরাধীরাও হয়রানীর শিকার হতে পারেন। যদিও পুলিশ সপিার বার বার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতে কোনো নিরপরাধী ব্যাক্তি কোনো রকম হয়রানীর শিকার হবে না। তাই সাধারন মানুষ আশা করেন তিনি তার কথা রাখবেন।
প্রসঙ্গত গত ১৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ। আর এবার গ্রেফতার করা হলো সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলকে। কাউন্সিলর বাবুকে চাঁদাবাজীর মামলায় গ্রেফতার করার পর নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্থরের জনগনের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

নারায়ণগঞ্জের লোকাল মিডিয়ায়ও পুলিশ সুপারের বিশেষ প্রশংসা করে একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সঙ্গে প্রকাশ করা হয় বাবুর বিগত দিনের বিতর্কিত কর্মকান্ডের নানা কাহিনী। বিপরিতে এরই মাঝে গত বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কাউন্সিলর সাদরিলকে গ্রেফতার করে। সংরক্ষিত আসনের একজন মহিলা এমপির গাড়ি ভাংচুরের ‘ভুল অভিযোগে’ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত অনলাইন পোর্টালগুলি এ বিষয়টির উপরও অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। গতকাল সংবাদপত্রগুলিতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কিন্তু অধিকাংশ রিপোর্টেই বেরিয়ে আসে সাদরিলকে পুলিশ বিনা অপরাধে গ্রেফতার করেছে। অপরাধ ছিলো সেই মহিলা এমপিরই।

তিনি স্থানীয় থানা পুলিশকে না জানিয়ে নিজের বোনজামাতাকে শায়েস্তা করতে এসেছিলেন। তাই দুটি গ্রেফতার নিয়ে জনসাধারনের মাঝেও স্পষ্ট দুই রকমের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। এছাড়া বিগত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার অনেক বড় বড় অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে শহরবাসীর মাঝে প্রশংসিত হয়েছেন। বিশেষ করে কাউন্সিলর বাবুর গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়া ছিলো চোখে পরার মতো। এছাড়া বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে জিডি এবং মামলাও বিশেষভাবে আলোচিত হয় তখন।

যার ফলে পুলিশ সুপারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে। এখনো এই শহরের সাধারন মানুষের মাঝে তার একটা ইতিবাচক ভাবমুর্তি বিরাজ করছে। কিন্তু অপর কাউন্সিলর সাদরিলকে গ্রেফতার করার পর সাধারন মানুষ ক্ষানিকটা চমকে উঠেছে বলেই মনে হচ্ছে। এরই মাঝে মিডিয়ায় যে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে তাতে দেখা যায় সংরক্ষিত আসনের সেই মহিলা এমপিই আইন লঙ্গন করেছেন। একজন সংসদ সদস্য হয়ে তিনি এভাবে এসে কিছু করতে পারেন না। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানাতে পারতেন।

যাহোক তার ভুলের কারনেই অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাটি সাদরিলের নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় তিনি পরে ঘটনা স্থলে গেলে পুলিশ প্রথমে তাকে আলাপ করার কথা বলে থানায় ডেকে নেয় এবং দীর্ঘক্ষন থানায় আটকে রেখে গ্রেফতার করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো কাউন্সিলর বাবু আর সাদরিলের মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মাঝে সাদরিল সাদাসাদে একজন মানুষ হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কোনো রকম অপরাধের সঙ্গে জরিত থাকার কোনো অভিযোগ নেই।

বিপরিতে বাবু ছিলো আরো অনেক আগে থেকেই বিতর্কিত। মিডিয়ায় প্রায় সব সময়ই বাবুর নানা অপকর্মের রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে আসছে। কিন্তু সাদরিলের বিরুদ্ধে তার পিতা সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের রাজনীতির কারনে কিছু ‘গায়েবী রাজনৈতিক মামলা’ ছাড়া আর কোনো মামলা বা জিডি নেই।

তাই সাদরিলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের বিষয়টিযে কেউ সহজে মেনে নেবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই এ যাবৎ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এই দুই কাউন্সিলরের গ্রেফতারের খবরে সমাজে দুই রকম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। বাবুকে গ্রেফতারের বিষয়টি মানুষ প্রশংসা করলেও সাদরলিকে গ্রেফতার করায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।