৬ ঘন্টা পর পুলিশের শর্টগান ও ওয়ারলেস ফেরত দিয়েছে খলিল মেম্বার

0
819
নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে ৬ ঘন্টা পর সংঘর্ষের সময় খোয়া যাওয়া পুলিশের শর্টগান ও ওয়ারলেস ফেরত দিল খলিল মেম্বার। বন্দর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে ৬ ঘন্টা পর সংঘর্ষের সময় খোয়া যাওয়া পুলিশের শর্টগান ও ওয়ারলেস ফেরত দিল খলিল মেম্বার। বন্দর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম ও ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।

এককালের সন্ত্রাসের জনপদখ্যাত বন্দরের উত্তরাঞ্চল তথা মদনপুরে খলিল বাহিনীর উত্থানের পর পুনরায় আতংকের নগরীতে পরিনত হচ্ছে। কামু-সুরত আলী বাহিনীর অবসান হলেও নব্যগডফাঁদার রুপে নিজেকে জাহির করতে বেপোরয়া হয়ে উঠেছে খলিল মেম্বার ওরফে বরকি খলিল। জানা গেছে, ১২ জানুয়ারি রাতে খলিল মেম্বারের মাদক সেন্ডিকেটের নূর নবী ও রিফাত নামের ২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এ খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে খলিল মেম্বারের সহযোগী চাঁনপুর এলাকার মতিনের ছেলে সুজন, দিপু, মাইনুদ্দিন, সেলিম, মুকুল, হান্নান, মনির, কানা মতিন, মারুফ, আনোয়ারসহ ২৫/৩০ জন এসে পুলিশকে ঘিরে রাখে। তারা আটক দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের উপর হামলা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে সর্টগান ও ওয়ারলেস ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে প্রচন্ড চাপের মুখে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে খলিল মেম্বার উপস্থিত থেকে পুলিশের সর্টগান ও ওয়ারলেছ বন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম সরকার ও ইন্সপেক্টর(তদন্ত) হারুন অর রশিদের কাছে ফেরত দেয়। এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। ১৩ জানুয়ারি মদনপুর এলাকায় র‌্যাাব ও পুলিশের একাধিক টিমসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

মদনপুর ইউপি মেম্বার খলিলুর রহমান ওরফে বরকি খলিলকে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও এক সময়ের ত্রাস বিএনপি নেতা কাবিল ওরফে কাবিলা শেল্টার দিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এম এ সালাম চেয়ারম্যান হওয়ার পর মদনপুর ইউনিয়ন তার নিয়ন্ত্রণে নিতে খলিল মেম্বারকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে।

চাঁনপুর এলাকার মৃত ইয়াছিন মিয়ার ছেলে একাধিক হত্যা মামলার আসামী বিএনপির নেতা কাবিলা তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে খলিলকে সহায়তা করছে। পুলিশের উপর হামলা, মারধরসহ সর্টগান, ওয়ারলেছ ছিনিয়ে নেয় চাঁনপুর এলাকার সুজন, কানা মতিন, দিপু, মনিররা পুলিশকে ধাওয়া করলে পুলিশ পাল্টা অ্যাকশনে যায়।

খলিল মেম্বার বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ টিয়ার সেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল। সংঘর্ষে পুলিশের এস আই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ ব্যাচ নং ১১১৭, মনোয়ার হোসেন ব্যাচ নং -১২২৭ সহ ৪জন আহত হয়।

এছাড়া স্থানীয় অন্তত আরো ৪০ থেকে ৪৫ জন আহত হয়েছে। খলিল বাহিনী ও পুলিশের সংর্ঘষে আশিকুর রহমান (২৫) নিহত হয়। সে মদনপুরের চানপুর এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে। আশিকুর রহমান মদনপুরের প্যানডেক্স গার্মেন্টের শ্রমিক।

পরিবারের লোকজন বলছেন, আশিকুর বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর সন্ধ্যায় বাজার করতে গেলে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে প্রান হারায়। আহতদের মধ্যে বাবু নামের এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ সদস্য দেবাশীষ ও মনোয়ার হোসেন বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসাপাতালে ভর্তি আছেন বলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান।