নারী ও শিশু আদালতের পিপি রাকিবের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
34
নারী ও শিশু আদালতের পিপি রাকিবের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : মামলা নিস্পত্তির কথা বলে সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে উনিশ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পি.পি. এড. রাকিবুদ্দিন আহাম্মেদ রাকিবের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সোহরাব হোসেনের বর্তমান আইনজীবী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান খোকনকে প্রস্টিটিউড দিয়ে মিথ্যা ধর্ষনের মামলা দায়ের করিবেন বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে ভোক্তভোগীরা। যা নিয়ে আদালতপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পি.পি. এড. রাকিবুদ্দিন আহাম্মেদ রাকিবের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুলাই সাড়ে উনিশ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সোহরাব হোসেন ও মিথ্যা ধর্ষনের মামলা দায়ের হুমকি দেয়ার প্রসঙ্গে এড. মোস্তাফিজুর রহমান খোকন আইনজীবী সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়াও এড. মোস্তাফিজুর রহমান খোকনকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ায় এড. রাকিবের বিরুদ্ধে শনিবার ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। যার নং- ১৪৮৩ । সোহরাব হোসেন (৩৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এস.ও রোড এলাকার শেখ আলাউদ্দিনের পুত্র।
সোহরাব হোসেন জানান, বিরুদ্ধে সি.আর. মামলা নং-৯৩৫/১৮ জামিন ও বাদীনির দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করিয়া সি.আর. মামলাটি নিস্পত্তি করিয়ে দিবেন বলে পি.পি. রাকিবুদ্দিন আহাম্মেদ রাকিব মামলার জামিন ও নিস্পত্তির বাবদ বিগত ১৫/১০/১৮ইং তারিখে ২,৫০,০০০/- টাকা আমার বাবার নিকট হইতে নগদে গ্রহন করেন এবং জামিন হওয়ার দুই দিন পর আমাকে এড. রাকিব এর চেম্বারে ডেকে এনে বুঝান যে, মামলাটি নিস্পত্তির করার জন্য আরো ২,০০,০০০/-এবং বাদীর কাবিনের টাকা বাবদ ৬,০০,০০০/- প্রদান করিতে হইবে তা হলে মামলা নিস্পত্তি হইবে, ফলে আমি সরল বিশ^াসে এর চারদিন পরই আমি ৮,০০,০০০/- যোগার করে আমি আমার বাবা সহ এড. রাকিব এর চেম্বারে এসে তার হাতে তুলে দেই তখন দেনমোহরের ৬,০০,০০০/- টাকার একটি সাদা কাগজে লিখে স্বাক্ষর করে দিলেও জামিন ও নিস্পত্তি বাবদ গ্রহন কৃত টাকার কোন লিখিত দেন নাই। তখন তিনি আমাদের কে জানান যে আপনার কোন চিন্তা করিতে হইবে না কোটে এটেন্ড করিতে হইবে না, ৩/৪ মাসের মধ্যে মামলাটি খালাস করে দিব। উক্ত দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি বিদেশে চলে যাই এবং আমি এড. রাকিব এর কথা বিশ^াস করে আমি মে-১৯ ইং তারিখে দেশে আসি। দেশে আসার কিছুদিন পর বাদী পক্ষ আমাকে সি.আর. মামলা নং ৯৩৫/১৮ তে গ্রেফতার করান। পুনরায় জামিন ও নিস্পত্তির করার জন্য ৯,০০,০০০/-টাকা দাবী করেন। আমার বাবা ও বাই নিরুপায় হয়ে এড. রাকিবের হাতে ৯,০০,০০০/-টাকা তুলে দিতে বাধ্য হন। জামিন হওয়ার ৪ দিন পর আমার অসুস্থতার জন্য চিকিৎসার জন্য অষ্ট্রেলিয়া (পাপোয়া নিউ গীনিয়া) চলে যাই এবং সেখানে ৭ দিন হাসপাতালে থাকার পর আমি বাসায় আসিলে এড. রাকিব আমাকে ফোন করে ভয়-ভীতি স্বরূপ কথা বলেন। ১৭ই জুন-২০১৯ ইং এড. রাকিব আমাকে আবার ফোন দিয়ে বলে যে বিগত ২৮/৫/১৯ইং তারিখে আমার জামিন বাতিল হয়েছে আপনাকে আবার জামিন নিতে হবে এবং জামিন নিতে আরো ১,০০,০০০/-টাকা লাগবে। উক্ত কথা শুনিয়া আমি প্রতিবাদ করলাম যে, আপনি মামলা নিস্পত্তির কথা বলিয়া সর্বমোট ১৯,৫০,০০০/- নিয়েছেন কিন্তু মামলা নিস্পত্তি হয়নাই বরং ওয়ারেন্ট হয়েছে এখন আবার কিসের টাকা চান। তখন আমি আইনবীজি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেই এবং বিগত ২৩/৭/১৯ইং তারিখে এড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান খোকন এর মাধ্যমে মাত্র ১০,০০০/-টাকার বিনিময়ে জামিন প্রাপ্ত হই। এড. রাকিব আমার কাবিন নামায় দুই লক্ষ টাকা লেখা থাকিলেও আমাদের কে ভুল বুঝিয়ে প্রতারনামূলক ভাবে ৬,০০,০০০/-টাকা একটি কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে গ্রহন করেন। বর্তমানে এড. রাকিব আমার নিকট হইতে সর্বমোট ১৯,৫০,০০০/-(উনিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) গ্রহন করিয়া মামলাটি নিস্পত্তির কথা থাকিলেও সে মামলা নিস্পত্তি না করিয়া উল্টা আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা করিয়ে দেন। অপরদিকে, সোহরাব হোসেনকে জামিন করায় এড. মোস্তাফিজুর রহমান খোকনকে হুমকি দেয়। খোকন জানান, এডভোটেক রাকিব আমার মোবাইলে ফোন করিয়া হুমকী প্রর্দশন পূর্বক বলে যে এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান খোকন বলছেন, আমি বললাম জি, আপনি কে বলছেন আমি এডভোকেট রাকিব, তখন আমি উক্ত রাকিবের সাথে মামলার আইনজীবি পরিবর্তন এর বিষয়ে আলাপ করিতে চাইলে তিনি তা না করিয়া সরাসরি আমাকে হুমকী প্রদান করিতেছেন যে আপনার বিরুদ্ধে আড়াই হাজার থানা একজন মহিলা মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন আপনার দ্বারা উক্ত মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন সেই নিয়ে আগামী ২৪/৭/১৯ইং ১০.০০ ঘটিকা হইতে ১১.০০ঘটিকার মধ্যে মামলা করা হইবে। তখন তিনি আমাকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নিঃ দঃ বিঃ আদালতের পি.পি. এড. রাকিবুদ্দিন আহাম্মেদ রাকিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন। এব্যাপারে রাকিবুদ্দিন আহাম্মেদ রাকিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করলে. তিনি ডাক্তারের চেম্বারে রয়েছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।